বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।
র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ধসে পড়া খনির ভেতরে আরও শ্রমিক আটকা থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
মঙ্গলবার কয়েক ডজন শ্রমিক আল-জারা স্বর্ণখনির ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে কাজ করছিলেন। এ সময় একের পর এক সুড়ঙ্গ ধসে পড়তে শুরু করে। পরদিন সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া এক শ্রমিক জানান, খনির ভেতরে এখনো কতজন আটকা রয়েছেন, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। শ্রমিকেরা নিজেদের ব্যবহৃত সীমিত সরঞ্জাম দিয়েই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পাথর ও মাটির স্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।
শ্রমিক আল আমিন সুলাইমান জানান, খনিটির সুড়ঙ্গগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি। ফলে একটি অংশ ধসে পড়ার পর আশপাশের সুড়ঙ্গগুলোও ভেঙে পড়ে।
সুদানে স্বর্ণের বড় একটি অংশ ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক খনিতে উত্তোলন করা হয়। এসব খনিতে শ্রমিকেরা সাধারণত হাতে বা অল্প কিছু সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ করেন। স্বর্ণ প্রক্রিয়াজাত করার সময় তাদের সায়ানাইড ও পারদের মতো বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শেও আসতে হয়। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সেখানে অনেক বেশি।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত চলছে। দীর্ঘ এই সংঘাত দেশটির অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধের অর্থায়নে স্বর্ণ বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের সংকটে অনেক তরুণ ঝুঁকিপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক খনিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সুদান আফ্রিকার অন্যতম বড় স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ। শিল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে দেশটির ক্ষুদ্র ও কারিগরি খনিতে ২০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করতেন। গত বছর দেশটিতে প্রায় ৭০ টন স্বর্ণ উৎপাদিত হয়েছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, উৎপাদিত স্বর্ণের বড় একটি অংশ সীমান্তপথে পাচার হয়ে যায়।
সূত্র: গালফ নিউজ
এনএইচ





