বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার বলেছেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় না আসা আওয়ামীলীগ তাদের প্রতি জনসমর্থন তৈরিতে নানাভাবে চেষ্টা করছে। সস্তা জনপ্রিয়তা লাভের আশায় সকলকে পাশ করানোর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এসএসসি, এইচএসসিতে হাইব্রিড রেজাল্ট হচ্ছে। সহজভাবে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের কারণে সত্যিকার মেধার মূল্যায়ন হচ্ছে না। যার কারণে উপয় পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করার পরও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীরা উত্তীর্ন হতে পারছেনা। সরকারের এই সস্তা জনপ্রিয়তার আকাঙ্খাই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

ছাত্রশিবিরের মাসিক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর এক মিলনায়তনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শিবির সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমানের পরিচালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারিয়েট সদস্যবৃন্দ।

শিবির সভাপতি বলেন, একদিকে অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে ফল ভালো করানোর প্রবনতা, অন্যদিকে বিশ্বব্যিালয় ভর্তি পরীক্ষায় শতকরা ৮৫% ছাত্র-ছাত্রী ফেল করায় শিক্ষ ব্যবস্থা কোথায় গিয়ে পৌঁচেছে তা বুঝার বাকী নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় হাজার হাজার মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা কেন ফেল করছে তাও আজ পর্যালোচনার বিষয়।

মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের অবমূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের কোন ছলচাতুরী আছে কিনা তাও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। আবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ধারাবাহিকতা দেশের শিক্ষা কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংসের এগিয়ে যাচ্ছে। সবকিছুর জন্যই সরকার সমানভাবে দায়ী। ছাত্র-ছাত্রীদের গণহারে পাশ ও প্রতিটি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে বারবার শিক্ষাবিদসহ দেশের সচেতন মানুষেরা কথা বললেও সরকার তা আমলে নিতে নারাজ।

তিনি বলেন, শিক্ষার মানে অবনতি ঘটেছে, এটা সন্দেহাতীত সত্য। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টায় কোন লাভ হবে না। সরকারের উচিৎ হবে এখনই দায় স্বীকার করে শিক্ষাবীদ, শিক্ষকদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ। অন্যথায় এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এপ্লাস প্রাপ্ত অনেক ছাত্র-ছাত্রীকেও হয়তো দেশের বোঝা হয়ে থাকতে দেখা যাবে।

শিবির সভাপতি বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রের বাতাস বইছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, লতিফ সিদ্দিকীর মত ধর্মবিদ্বেষী ব্যক্তি বাংলাদেশের মন্ত্রী। দেশবাসী আগেই দেখেছে, এই ব্যক্তি সমানভাবে ধর্মবিদ্বেষী ও অহঙ্কারী। যেভাবে তিনি বারবার ধর্মবিদ্বেষী মন্তব্য ও কার্যক্রমে দম্ভের পরিচয় দিয়েছেন, তাতে অনেক আগেই তাকে মন্ত্রীত্ব থেকে সরিয়ে বিচারের সম্মুখিন করা উচিৎ ছিল।

শুধু অপসারণ নয়, লতিফ সিদ্দিকীর দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান আবদুল জব্বার।

জেআই