বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেছেন, “দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ শ্রমজীবী। এ সকল মেহনতি মানুষরা দেশের বিভিন্ন কলকারখানা হতে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে কায়িক পরিশ্রম করে আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। অতি কষ্টের সাথে বলতে যাদের রক্ত-ঘামে দেশের উন্নতি সমৃদ্ধি ঘটে সেই শ্রমজীবী মানুষরা তাদের সকল অধিকার থেকে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত শোষণ বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। তাই মেহনতি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী শ্রমনীতি অপরিহার্য।”

মঙ্গলবার (০৪ মে) বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, কবির আহমেদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

শামসুল ইসলাম বলেন, “ন্যায্য মজুরি শ্রমিকদের প্রতি দয়া দাক্ষিণ্য নয়। এটি শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার। কিন্তু মেহনতি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বিভিন্ন কৌশলে বঞ্চিত করছে এক শ্রেণির মালিকরা। ইসলামী শ্রমনীতির প্রয়োগ থাকলে কোন মালিকের পক্ষে শ্রমিকদের ঠকানো সম্ভব হতো না। তাই শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে ইসলামী শ্রমনীতির আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য শ্রমিক ভাইদের এগিয়ে আসতে হবে। ইসলামী শ্রমনীতি সাম্য ন্যায়ের পাশাপাশি সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবে।”

তিনি আরো বলেন, “আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, শ্রমিকরা আল্লাহর বন্ধু। আর আল্লাহ তা’য়ালা ঘোষণা দিয়েছেন সাওম একান্ত তার জন্য। সাওম পালনকারীদের নিজ হাতে পুরস্কৃত করবেন। সুতরাং বলা চলে যে সকল শ্রমিক ভাইয়েরা সাওম পালন করবেন নিঃসন্দেহে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কাল কেয়ামতের ময়দানে তাদের সম্মানিত করবেন। আমি শ্রমজীবী ভাই-বোনদের মাহে রামাদানের হক যথাযথ ভাবে আদায় করার উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।”

শামসুল ইসলাম আরো বলেন, “করোনা মহামারীর কারণে সরকার ঘোষিত লকডাউনে প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমজীবী, অপ্রাতিষ্ঠানিক দিনমজুর, রিক্সা-ভ্যান চালক, পরিবহন শ্রমিক, হকার, নিমার্ণ শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষ কর্ম হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। তাদের সংসারে খাদ্য সামগ্রী সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের তীব্র সংকট চলছে। আমি সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি এই অসহায় দুস্থ মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার। সরকারের পাশাপাশি কলকারখানাসহ প্রতিটি শ্রম সেক্টরের মালিকদের শ্রমজীবীদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানাচ্ছি। পাটকল, চিনিকলসহ বন্ধকৃত সকল কলকারখানা খুলে দিতে হবে। ঈদের পূর্বে সকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ বোনাস প্রদান করতে হবে।”

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে সারাদেশে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালিত হয়েছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। এরমধ্যে রয়েছে ঢাকা মহানগরী উত্তর, ময়মনসিংহ মহানগরী, খুলনা মহানগরী, কুমিল্লা মহানগরী, বরিশাল মহানগরী, গাজীপুর মহানগরী, কুমিল্লা জেলা উত্তর, খুলনা জেলা দক্ষিণ, নাটোর জেলা, বগুড়া শহর, সিলেট জেলা উত্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলা, মাদারীপুর জেলা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা, সুনামগঞ্জ জেলা, লক্ষ্মীপুর জেলা, ঢাকা জেলা দক্ষিণ। এছাড়াও জেলা-উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্র ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

এমবি