বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চ সফল করতে আয়োজিত প্রস্তুতি সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ জানান, শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরে লংমার্চের বহর চট্টগ্রামে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করবে। পথে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়রা বহরকে অভ্যর্থনা জানাবেন এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা পর্যায় থেকে স্থানীয়রাও এতে যোগ দেবেন।
তিনি বলেন, ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা লংমার্চকে জাতীয় সিরিজ কর্মসূচি হিসেবে নিয়েছি।’ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরদিন ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সংসদ ও রাজপথে একসঙ্গে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আবারও জুলাই আন্দোলনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সরকার জুলাইয়ের ঘটনাকে মুছে দিতে চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি এভাবে জাতির সঙ্গে বেঈমানি করছে। আমরা জুলাইকে মুছে দিতে দেব না, থামাতেও দেব না। গণঅভ্যুত্থান জনগণ করেছে। এটি কোনো দলের ইস্যু নয়, জনগণের ইস্যু।’
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, কৃষকরা সার পাচ্ছেন না। সাতটি সার কারখানার মধ্যে ছয়টি বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঘোষিত কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করতে তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রস্তুতি সভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দলের প্রচার, মিডিয়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিভাগ, ছাত্রপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের নেতাকর্মীরাও সভায় অংশ নেন।
এস