সারাদেশে অব্যাহতভাবে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান শনিবার এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সারাদেশে অব্যাহতভাবে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি পাওয়ার নৃশংস ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। প্রতিদিনই বাসা-বাড়ি, অফিস ও রাস্তাঘাটে একশ্রেণীর পাণ্ডলোকের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে দরিদ্র অসহায় শিশু-কিশোরেরা।
কোথাও নিরাপদে নেই দরিদ্র শিশুরা। মেয়ে শিশুরা যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে এবং অনেক শিশু খুন ও অপহরণের শিকার হচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে নির্বিকার সরকারের নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও মহিলা আইনজীবী সমিতির সূত্র জানিয়েছে যে, চলতি সালের গত ১ মে থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে সারাদেশে ১০২৩টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। গত ৩ মাসে হত্যা করা হয়েছে ১৬০ জনকে, যাদের অধিকাংশই শিশু। চলতি বছরের গত ৬ মাসে ৯০টি শিশু অপহৃত হয়েছে।
সম্প্রতি কতিপয় দুর্বৃত্ত সিলেটের শিশু সামিউল ইসলাম রাজনকে যেভাবে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করেছে তা এতই মর্মান্তিক ছিল যে, এ ঘটনা দেশে-বিদেশে মানুষকে কাঁদিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কী ধরনের অবনতি হলে এরূপ ঘটনা ঘটতে পারে তা জাতিকে ভাবিয়ে তুলেছে।
বাংলাদেশের মানুষ এ হত্যাকাণ্ডের শুধু বিচারই চায় না, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক বার্তা দিতে চায়।
সিলেটের শিশু সামিউল ইসলাম রাজন হত্যার বিচারের দাবীতে যখন দেশবাসী সোচ্চার ঠিক তখনই গত ১৬ জুলাই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নিভৃত এক পল্লীতে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ইয়াছিন (৮) ও নাসিমকে মোস্তফা নামক এক পাষণ্ডযুবক ধরে নিয়ে শিকল পরিয়ে মোটা দড়ি দিয়ে পেচিয়ে গাছের সাথে বেঁধে তাদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালায়।
শিশু দু’টির অপরাধ তারা মোস্তফার কথা অমান্য করে বৃষ্টির মধ্যে খেলছিল। এ ঘটনার সচিত্র প্রতিবেদন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সরকার নির্বিকার। এ রকম আরো অনেক ঘটনা ঘটছে তা মিডিয়া আসছে না।
সরকার পুলিশকে দলীয় কর্মীর মত ব্যবহার করায় পুলিশের ভূমিকা দিন দিন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে নিরপরাধ শিশুরা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাবে। যা একটি সুস্থ জাতি গঠনে অন্তরায় সৃষ্টি করবে।
দেশে যখনই শিশু নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটে তখনই জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
কিন্তু ওই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট যেমন প্রকাশ করা হয় না, তেমনি অপরাধীদের বিচারও হয় না। ফলে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, শিশু হত্যা ও অপহরণ অব্যাহতভাবে বেড়েই যাচ্ছে।
শিশু নির্যাতন ও শিশু ধর্ষণ রোধ করার জন্য অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। সেই সাথে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
এআর





