প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এরশাদের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, স্বঘোষিত বেইমান আর বিশ্ব আজ বেহায়া একসঙ্গে হয়ে দেশ চালাচ্ছে ।

শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

খুনিদের সাথে আওয়ামী লীগের জোট এমন দাবী করে তিনি আরও বলেন, সরকারের শরিক জাসদ দাবি করে আওয়ামী লীগ তাদের ৩০ হাজার কর্মীকে খুন করেছে আর আওয়ামী লীগ দাবি করে জাসদ হাজার হাজার মানুষকে খুন করেছে।

এই খুনিরা আজকে এক হয়ে দেশ চালাচ্ছে। এদেরকে বিদায় করতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশে গুম, খুন, দূর্নীতি বেড়ে যায়। কারণ আওয়ামী লীগের সাথে যারা আছে তারা সবাই খুনি।

খালেদা জিয়া তরুন প্রজন্মের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, তরুনরা তোমরা রাজপথে নেমে আসো। আমরা তোমাদের সঙ্গে থাকবো। একসঙ্গে থেকে এই খুনি সরকারকে বিদায় করতে হবে। জনগরে অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। এদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়।

আওয়ামী লীগ আজকে দেশের বোঝা হয়ে গেছে, এই বোঝা সরাতে হবে। দেশের মানুষকে মুক্ত করতে হবে। তারা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

দেশব্যাপী গুম-খুনে ছেয়ে গেছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, নারায়ণগঞ্জের ১১জনকে খুন করা হয়েছে। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত। এই হত্যাকাণ্ডের আসল হোতারা ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে। লোক দেখানোর জন্য কয়েকজনকে ধরা হয়েছে। আর যাদের ধরা হয়েছে তাদের জেল খানায় জামাই আদরে রাখা হবে।
এই খুনের মুল হোতা র‌্যাবের অতিরিক্ত পরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান। তাকে পদচ্যুতি করে গ্রেফতার করতে হবে। কারণ তাকে বিচারের আওতায় আনলে সব বিচার বহির্ভূত হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে আমরা বসে থাকব না। তখন আমাদের কিছু করার থাকবেনা। আমরা রাজনীতি করি জনগনের জন্য। জনগনের দূর্ভোগ সৃষ্টি করে কোন পদক্ষেপ নিতে পারবেননা। এসময় তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন কর্মসূচি দিলে আপনার রাজপথে নামবেন?

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সরকার দেশের সব শিল্প ধ্বংস করে দিচ্ছে, শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারা দেশকে পেছনে নিয়ে যায়, যারা দেশকে পেছনে নিয়ে যায় তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায়না। তাই এদের বিদায় করতে হবে।

কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার আমাদের আমল থেকে সারের মূল্য কয়েকগুন বৃদ্ধি করেছে। অন্যদিকে কৃষকরা তাদের উৎপদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায়না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার, মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সাথে আঁতাত করে দেশের অনেক বড় ক্ষতি করেছে। আর আমি দেশ ছেড়ে যাইনি। সেজন্য আমার ছেলেদের ধরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করা হয়েছে।

সুন্দরবনকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, এরা মানুষ খেকো নয়, এরা বাংলাদেশ খেকো। এরা বাংলাদেশের নাম নিশানা মুছে দিতে চায়। এদেরকে আর ক্ষমতায় রাখা যায়না। বিদায় করতে হবে। আপনারা প্রস্তুত থাকুন।

খালেদা জিয়া বলেন, এভাবে আর আপনজনদের হারিয়ে নীরবে চোখের জল ফেলবেন না। রাজপথে নেমে আসুন, প্রতিবাদ করুন। আন্দোলনে ডাক দিলে রাজাপথে নেমে আসবেন। আর অস্ত্র দিয়ে, বালুর ট্রাক দিয়ে আন্দোলন আটকে রাখা যাবেনা।

এসময় তিনি দেশের তরুন সমাজকে আওয়ামী লীগের হাত থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি আন্দোলনের ডাক দিব আপনাদের এক সঙ্গে রাত-দিন থেকে এ সরকারের হাত থেকে দেশের জনগণকে বাঁচাতে হবে।

আওয়ামী লীগকে আসল জঙ্গি আখ্যা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, শায়েখ রহমান কার আত্মীয়? হাসিনাকে মারার আমাদের কোন দরকার নেই। হাসিনা যতদিন বাচবে ততদিন মানুষের ধিক্কার পাবে।

আল্লাহর গজবে এমনিতেই সে ধ্বংস হয়ে যাবে। হাসিনাকে মারার ষড়যন্ত্র একটা অপপ্রচার। আমরা জনগনের সাথে আছি থাকবো।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের গুন্ডামী বন্ধ করেন, এদের হাতে এতো অস্ত্র কোথা থেকে আসলো। জনগন তা জানতে চায়।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, সামনে আপনাদের দূর্দিন অপেক্ষা করছে। জনগন আপনাদের ছেড়ে দেবেনা। জনগনের উপর জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগন সোচ্চার হচ্চে। আপনাদের পিষে ফেলবে। তাই অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। আপনাদের অধীনে যে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারেনা তা এইচটি ইমাম জানিয়ে দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি হচ্ছে গুম, খুনের রাজনীতি। এরা ক্ষমতায় আসলেই দেশে গুম, খুন অপহরন বেড়ে যায়। দেশের মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারেনা। এদের হাতে শুধু বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা নয় সাধারন মানুষও নিরাপদ নয়।

বেগম জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ একটি অত্যাচারী সরকার। অত্যাচারী সরকার ক্ষমতায় থাকায় দেশের এ অবস্থা। তাই এদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। দেশকে নিরাপদ রাখতে হলে আওয়ামী লীগের হাত থেকে দেশ ও জনগণকে মুক্ত করতে হবে।

তিনি সরকারকে হুশিয়ার করে বলেন, সরকার দফায় দফায় গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়ায়। গোটা দেশে গ্যাসের হাহাকার। এখন আবার গ্যাস, বিদ্যৎ আর জালানী তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দাম বাড়ানো হলে আমরা আর বসে থাকবো না। তখন থেকে সরকারের বিরুদ্ধে জোর আন্দোলন শুরু হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে এদের ক্ষমতা থেকে হটানো হবে।

বেগম জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশকে পিছনের দিকে নিয়ে যায়। এরা কখনও দেশেকে সামনের দিকে এগিয় নিতে পারেনা। এদের মুখে এক কাজে আরেক। যা বলে তা করবে না এর নাম হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

পুলিশ আজ জনগণের বুকে গুলি চালায়। তবে পুলিশের সব সদস্য খারাপ নয়। এই বাহিনীর অনেক সদস্য দেশ প্রেমিক। বর্তমান সরকার একটি জেলা ও দলীয় লোক দিয়ে পুলিশ বাহিনীকে কলঙ্কিত করেছে উল্লেখ করে পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক করে বেগম জিয়া বলেন, আপনারা নিজ দেশের জনগণের বুকে গুলি চালাবেন না। এরা আপনাদের ভাই। আপনারা যদি অবৈধ সরকারের আদেশ মানেন তাহলে আপনাদেরও বিচার করা হবে। এ বিষয়টি মনে রাখবেন।

সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ সরকারও অবৈধ এদের সকল কাজ ও অবৈধ। জোর করে ক্ষমতা দখল করে তারা এখন নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে নতুন নতুন আইন পাশ করেছে। এদের আইনও অবৈধ সংসদও অবৈধ। ভবিষ্যতে এ সরকারের সকল আইন বাতিল করা হবে।

বর্তমান সরকারকে লুটেরা সরকার আখ্যায়িত করে বিএনপি নেত্রী বলেন, এদের মূল নীতি হচ্ছে দূর্নীতি আর লুটপাট। লুটপাট করে গোটা দেশকে ফকির বানিয়ে দিয়েছে। দেশের জনগণের কষ্টের টাকা সরকারী দলের লোকেরা নিজেদের পকেটে ভরেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ার, লে. জেনারেল (অব:) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আসম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।

আরও বক্তব্য রাখেন ২০ দলের অন্যতম শরীক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবর রহমান, বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব পার্থ, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল সৈয়দ ইব্রাহিম (অব.) বীরবিক্রম, লেবারপার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল মুবিন, খেলাফত মজলিশের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা ইসহাক প্রমুখ।

নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবীতে এবং সারাদেশে গুম-খুন ও গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চক্রান্তের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এমএইচ/জেআই