বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা একটি দায়িত্বশীল সংসদ দেখতে চান, যেখানে ব্যক্তিপূজা বা তোষামোদের পরিবর্তে জনগণের সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে। একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল সংসদ গঠনে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও বিএনপি সেই জনরায়কে অগ্রাহ্য করেছে। সংবিধানে বিধান না থাকার অজুহাতে তারা সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। অথচ সংবিধানে উল্লেখ না থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বর্তমান সংসদেও বিরোধী দল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বড় বাজেট দেওয়া সমস্যা নয়; মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা। দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে রাষ্ট্রের অর্থ আবারও বিদেশে পাচার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সরকারি ফ্ল্যাট গ্রহণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি ও প্লট গ্রহণ করেননি। তবে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে অস্থায়ীভাবে সরকারি ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন। এটি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে নেওয়া ব্যবস্থা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও জুলাই ফাউন্ডেশন নিয়ে বর্তমানে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই, যা হতাশাজনক।

সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থে অতীতেও জামায়াত বিভিন্ন সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার জনগণের রায়কে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। অন্যথায় দেশ নতুন সংকটে পড়তে পারে।

এমএম