হাদিসে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি যদি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় পাশের ব্যক্তিকে কথা বলতে নিষেধ কর, তবে তুমিও অনর্থক কাজ করলে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫১)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, খুতবা চলাকালে অন্যকে কথা বলতে নিষেধ করার জন্যও কথা বলা উচিত নয়। বরং সবাইকে নীরব থেকে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা প্রয়োজন।
খুতবার সময় কথা বলার বিষয়ে সাহাবির ঘটনা
সহিহ ইবনে খুযাইমায় বর্ণিত একটি হাদিসে খুতবা চলাকালে কথা বলার পরিণতি সম্পর্কে একটি ঘটনা পাওয়া যায়।
হজরত আবু যার (রা.) বলেন, একদিন নবী করিম (সা.) খুতবায় সুরা বারাআত পাঠ করছিলেন। এ সময় তিনি হজরত উবাই ইবনে কাআব (রা.)-কে প্রশ্ন করেন, সুরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে? প্রশ্ন শুনে উবাই (রা.) চুপ থাকেন। আবু যার (রা.) পরপর তিনবার প্রশ্ন করলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
জুমার নামাজ শেষে আবু যার (রা.) তাঁকে প্রশ্ন করেন, বারবার জিজ্ঞাসা করার পরও তিনি উত্তর দেননি কেন? তখন উবাই (রা.) বলেন, খুতবা চলাকালে প্রশ্ন করার কারণে তিনি জুমার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং অনর্থক কথা বলেছেন।
পরে আবু যার (রা.) বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানালে তিনি বলেন, উবাই ঠিকই বলেছেন। (সহিহ ইবনে খুযাইমা, হাদিস: ১৮০৭)
খুতবা শুরু হলে নামাজ ও অন্যান্য আমল থেকে বিরত থাকা
হজরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব ও ইমাম যুহরি (রহ.) বলেন, ইমাম খুতবার জন্য বের হলে আর কোনো নামাজ পড়া যাবে না। আর খুতবা শুরু হলে কোনো কথা বলা যাবে না।
এসব হাদিস ও বর্ণনার আলোকে ফকিহরা খুতবা চলাকালে মুসল্লিদের কথা বলা এবং তাসবিহ-তাহলিল পাঠ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই এ সময় উচ্চস্বরে দরুদ শরিফ পাঠ কিংবা তাকবিরে তাশরিক বলাও উচিত নয়।
জুমার খুতবা আল্লাহর স্মরণ ও ধর্মীয় উপদেশ শোনার গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই এ সময় নীরব থাকা, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত না হওয়াই মুসল্লিদের কর্তব্য।
এস















