রোববার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বইটির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ উল্লেখ করেন, ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন ভীষণ বইপাগল; পড়াশোনার বাইরে অন্যদিকে খুব একটা মনোযোগ দিতেন না। এক শিক্ষক মজা করে তাকে ‘জিন’ বলেও অভিহিত করেছিলেন। নতুন বইটি লেখার সময় সেই কিতাবমুখী দিনগুলোর স্মৃতি আবারও যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
লেখার প্রয়োজনে অসংখ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে তাকে। জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজেকে আবারও ‘বইপাগল’ ছাত্র হিসেবে আবিষ্কার করেছেন বলে জানান তিনি।
প্রায় দেড় বছর আগে বইটির কাজ শুরু হলেও, গত কয়েক মাস তার কাছে ছিল প্রায় গৃহবন্দি সময়ের মতো। নিরলস শ্রম ও একাগ্র সাধনার মাধ্যমে বইটির লেখা সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তা প্রকাশনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
তিনি জানান, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল আরও বিস্তৃত পরিসরের। কেবল ঈমান নয়, বরং ইসলামকে সামগ্রিকভাবে জানার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো একত্রে একটি গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা ছিল। এ বিষয়ে তিনি আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠকদের অবহিত করেছিলেন। তবে গবেষণার গভীরে যেতে গিয়ে নতুন নতুন বিষয় সামনে আসে, ফলে বইয়ের পরিধি দ্রুত বেড়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে প্রথম ধাপে শুধু ঈমান বিষয়ক আলোচনা নিয়ে আলাদা একটি বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনার বাস্তব রূপই ‘ঈমানের অপরিহার্য পাঠ’।
গ্রন্থটিতে ঈমানের মৌলিক স্তম্ভসমূহ আলোচনার পাশাপাশি কোরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে সমকালীন কুফর ও নিফাকের বিভিন্ন লক্ষণ চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের সংশয়, বিশ্বাসগত সংকট ও বাস্তব প্রেক্ষাপটে ঈমানের প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা নিয়েও আলোচনা স্থান পেয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বইটির নাম নির্ধারণের আগে পাঠকদের মতামত নেওয়া হয়, যেখানে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ও মতামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ পর্যন্ত ‘ঈমানের অপরিহার্য পাঠ’ নামটিই চূড়ান্ত করা হয়।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও জানান, ঈমান বিষয়ক এই বইয়ের পর পর্যায়ক্রমে ইসলামের ইবাদত, আখলাক, লেনদেনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে পৃথক গ্রন্থ প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সবশেষে তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, মহান আল্লাহ যেন এই প্রচেষ্টা কবুল করেন এবং বইটি যেন ঈমান শিক্ষা, আত্মসমালোচনা ও নাজাতের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে।
এমএম