১. চেহারা মৃদু কচলানো

ঘুম থেকে উঠেই দুই হাত দিয়ে চোখ ও মুখ মৃদুভাবে কচলানো সুন্নত। এতে ঘুমের প্রভাব দূর হয় এবং সতেজতা ফিরে আসে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) অর্ধ রাত কিংবা তাঁর কিছুক্ষণ পূর্ব পর্যন্ত ঘুমালেন। তারপর তিনি জাগ্রত হন এবং মুখমণ্ডল মুছে ঘুমের জড়তা দূর করেন। (শামায়েলে তিরমিজি: ১৯৭)

২. ঘুম থেকে জাগার দোয়া পড়া

ঘুম থেকে জাগার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দোয়া পড়া উত্তম। হুজাইফা ইবনে ইয়ামান (রা.) বলেন, নবীজি যখন নিদ্রা ভঙ্গ করতেন তখন বলতেন- الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ ‘সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করেছেন এবং প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে।’ (শামায়েলে তিরমিজি: ১৯০)

৩. ঘুম থেকে উঠেই মেসওয়াক করা

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘নবী (স.) দিনে বা রাতে যখনই ঘুম থেকে উঠতেন, অজু করার আগে মেসওয়াক করতেন।’ (আবু দাউদ: ৫৭)

উল্লেখ্য, ঘুম ভাঙার পর মেসওয়াক এবং অজুর আগে মেসওয়াক আলাদা সুন্নত। অজুর মেসওয়াকে ঘুম ভাঙ্গর পরের মেসওয়াক করার সুন্নত আদায় হয় না। (বাজলুল মাজহুদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১২৮)

৪. হাত তিনবার ধোয়া

ঘুম থেকে জেগে অজুর পানি বা পানির পাত্রে হাত দেওয়ার আগে হাত তিনবার ধোয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ জাগ্রত হবে তখন সে তার হাত পাত্রে ঢুকাবার পূর্বে যেন তা তিনবার ধুয়ে নেয়। কারণ সে জানে না তার হাত রাতে কোথায় ছিল।’ (সহিহ মুসলিম: ৫৩৩)

আরও পড়ুন: ঘুমানোর আগে ছোট ৫টি আমলের কথা ভুলবেন না

৫. নাক তিনবার ঝেড়ে পরিস্কার করা

ঘুম থেকে জেগে অজুর সময় নাক তিনবার ঝেড়ে ফেলা সুন্নত। হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের কেউ যখন নিদ্রা থেকে উঠল এবং অজু করল তখন তার নাক তিনবার ঝেড়ে ফেলা উচিত, কেননা, শয়তান তার নাকের ছিদ্রে রাত যাপন করেছে।’ (সহিহ বুখারি: ৩০৬৫)

ঘুম থেকে জাগার পর এসব ছোট ছোট সুন্নত আমাদের দেহকে পরিশুদ্ধ, মনকে সতেজ ও আত্মাকে আলোকিত করে। প্রতিটি সুন্নতই একদিকে শারীরিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখে, অন্যদিকে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি এনে দেয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঘুম ভাঙার পর এসব সুন্নত নিয়মিত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএম