বেশ কয়েকজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং সেটি ত্যাগের প্রক্রিয়া নিয়ে দেশে ও প্রবাসে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে স্ব-স্ব আইনজীবীর প্যাডে ‘নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন প্রক্রিয়াধীন’ বলে চিঠি দিয়ে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। যদিও নির্বাচনি আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগের দাপ্তরিক প্রমাণপত্র থাকা আবশ্যক।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ- ৬ শাহজাদপুর আসনের বিএনপি মনোনীতি প্রার্থী ড. এম এ মুহিতের যুক্তরাজ্যের নাগরিত্ব থাকা সত্ত্বেও তার মনোনয়ন জেলা রিটানিং কর্মকর্তা বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। অথচ ব্রিটেন সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট Companies House-এর রেকর্ডে তার Nationaliti লেখা আছে British. অথচ এম এ মুহিতের নির্বাচনী হলফ নামায় বিদেশি নাগরিকত্ত্ব নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটেন সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তার ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে 289, Bethnal Green Road London, United Kingdom, E26 AH.তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কোম্পনীর নাম HHED CONSULTANTS LIMITED. Company Number-09413910.

অভিযোগ রয়েছে, এসব যাচাই না করেই সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। এই আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে মুহিত ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো: মিজানুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, জাতীয় পার্টির মো: মোক্তার হোসেন, আমার বাংলদেশ পার্টির (এবি) আবু জাফর মো: আনোয়ারুস সাদাত প্রমুখ। ইতিমধ্যে তার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা, রিটানিং অফিসার একজন প্রার্থীর সঠিক তথ্য যাচাই বাছাই না করে বৈধ বলে ঘোষণা দেয়ার বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন অন্যান্য প্রার্থীরা। তারা বলেছেন-অন্য কোনো দলের সামান্য ভুলের কারণে যেখানে নমিনেশন বাতিল হয়ে যায়, সেখানে বিএনপি প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার ঘটনা চাপা থাকলো কিভাবে? এটা কি ভুল নাকি অন্য কিছু এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা।

সংবিধান অনুযায়ী, উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(গ) দফা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক হলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার করলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না। তবে তিনি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে প্রার্থী হতে বাধা থাকবে না।

শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, প্রার্থীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ উঠেছে। মনোনয়ন বাতিল হওয়া অনেক প্রার্থীর ভাষ্য, দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে একই ধরনের নথিপত্র দাখিল করলেও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মুখ দেখে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে সারাদেশে ৩০০ আসনে ৭২৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির ২৫, জামায়াতে ইসলামীর ১০, এনসিপির ৩, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৯, জাতীয় পার্টির (জাপা) ৫৯, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ২৫ ও স্বতন্ত্র ৩৩৮ জন রয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য দলের। দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় কতজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। নির্বাচন পরিচালনা অধিশাখা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তারা এটি সংগ্রহ করতে পারেনি।

এনএইচ