এ নিয়ে চলতি বছর মশাবাহিত এ রোগে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬৭ জনে। মাস হিসেবে এবছর সর্বোচ্চ ৪১ জনের মৃত্যু হয় জুলাই মাসে। এছাড়া জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে সাতজন, মে মাসে তিনজন, জুনে ১৯ জন ও অগাস্টে ৩৯ জন মারা যান। ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বৃহস্পতিবারের বুলেটিনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দুজন ডিএনসিসি কোভিড-১৯ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাকি চারজন চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এদের মধ্যে পাঁচজন নারী এবং একজন পুরুষ।

জানা যায়, চলতি বছরের জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১০ হাজার ৬৮৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এছাড়া জানুয়ারিতে ১১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন, মে মাসে ১৭৭৩ জন, জুন মাসে ৫৯৫১ জন, অগাস্টে ১০ হাজার ৪৯৬ জন রোগী ভর্তি হন। সেপ্টেম্বর মাসের ১৮ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮ হাজার ৯৮৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৪৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীদের নিয়ে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৪৬১ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি নতুন রোগীদের মধ্যে ২৪৩ জনই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায়। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ৯১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৬ জন, খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪৭ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১০৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ডেঙ্গু নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২ হাজার ৪২ জন রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৭১৭ জন, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১ হাজার ৩২৫ জন। ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।

জানা যায়, দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ গত বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেড়ে গেছে। মৃত্যুহারও দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। চলতি বছর বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। তবে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম। রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মৃত্যুহার এক দশমিক দুই শতাংশ। রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর পর্যন্ত এডিসের বংশবিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না। হাসপাতালে গেলে দেখা যায়, শয্যাশায়ী রোগীর পাশে উদ্বিগ্ন স্বজনদের দীর্ঘশ্বাস। এডিসের কামড়ে শুরু হওয়া জ্বর এখন আতঙ্ক সবার কাছে। হাসপাতালের ভেতরে রোগীর চাপ আর বাইরে মশার দৌরাত্ম্য- এই দুই মিলে ডেঙ্গু এখন বড় উদ্বেগের নাম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টি আর ভ্যাপসা গরম, এই দুই মিলেই এডিস মশার প্রজননের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। মশক নিধনে জনসম্পৃক্ততা জরুরি। প্রান্তিক পর্যায়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ তাদের। আবহাওয়ার বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। নিয়ন্ত্রণে পুরনো কর্মসূচি যথেষ্ট নয়। তাই এখন দরকার নতুন পদক্ষেপ, জনসম্পৃক্ততা আর সম্মিলিত উদ্যোগ। নইলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বিশিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় অনেকই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে এডিস মশার আবাসস্থলকে কেন্দ্র করে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। যারা স্প্রে বা ফগ মেশিন চালান, তাদেরকে প্রশিক্ষিত করতে হবে।