বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই আজ মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল আর চিলি। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত একটি শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের প্রতীক্ষায় আছেন।

ব্রাজিল-চিলির মহাকাব্যিক এই ম্যাচ নিয়ে মাতামাতি আর জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। কত যে বিশেষজ্ঞ বসে গেছেন অনেক আগে থেকেই এই ম্যাচের চুলচেরা বিশ্লেষণে, তার কোন ইয়্ত্তা নেই। চলছে বিশ্লেষণ, চলবে হয়তো আরও কিছুক্ষণ।

পরিসংখ্যানে ব্রাজিলের ধারে কাছেও নেই মরিচের মতো লম্বা আর চিকন দেশ চিলি। এবার বিশ্বকাপের খেলাতেও বেশ ঝাল ছড়াচ্ছে। চিলির ঝালের স্বাদ ইতিমধ্যেই নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। আজকে কী ঘটবে? সমস্ত পরিসংখ্যান ছিন্ন-ভিন্ন করে দিবে চিলি?   

গত ৯৫ বছরের মধ্যে নিজের দেশের মাটিতে ব্রাজিল যে ২৬ বার চিলির বিরুদ্ধে খেলেছে, তাতে তাদের একবারও হারের রেকর্ড নেই।

চিলির বিরুদ্ধে গত ১২টি ম্যাচে টানা জয়ের রেকর্ড ব্রাজিলের। ২০০০ সালে তারা বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইয়িং ম্যাচে সর্বশেষ হেরেছিল চিলির কাছে।

বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত যে তিনবার দুদল মুখোমুখি হয়েছে, তার তিনবারই জিতেছে ব্রাজিল।

দুদল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল গত বছরের ২০শে নভেম্বর টরন্টোতে এক ফ্রেন্ডলি ম্যাচে। ব্রাজিল চিলিকে হারিয়েছিল ২-০ গোলে।

কিন্তু তারপরও ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা ভালো করেই জানে, এই রেকর্ড আজকের ম্যাচেও অটুট রাখা কী ভীষণ কঠিন একটা ব্যাপার হবে।

চিলি প্রথম রাউন্ডে আক্রমণাত্মক ফুটবলের যে কৌশল দেখিয়েছে, সেটা শুধু মনোমুগ্ধকরই নয়, তাদের এই হামলা ঠেকানো আসলেই কঠিন। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে চিলি কতোটা অপ্রতিরোধ্য।

গেল বিশ্বকাপের এই একই ধাপে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল চিলি। এর আগে বিশ্বকাপে আরও যে দুবার দুই দেশ মুখোমুখি হয়, সেই দুবারও হেরেছে চিলি।

কিন্তু তারপরও ব্রাজিলের কোচ লুইজ ফেলিপ স্কলারি ভুলতে রাজী নন।

পরিসংখ্যান দিয়ে কিছুই বোঝা যায় না, বলছেন তিনি। “আমার মনে হয় যেদিন থেকে চিলির হাল ধরেছেন কোচ সাম্পাওলি, সেদিন থেকে দলে একটা নতুন গতি এসেছে, অনেক উন্নতি ঘটেছে তাদের খেলার।”

স্কলারি এর আগে খোলাখুলি স্বীকারও করেছেন, ব্রাজিলকে বিশ্বকাপে চিলির মুখোমুখি হতে না হলেই ভালো হতো। বিশেষ করে প্রথম রাউন্ডে জেতার জন্য ব্রাজিলকে যে রকম খাবি খেতে হয়েছে।

পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ওপর আরও একবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যে প্রচন্ড চাপ, স্কলারি ভালো করেই জানেন, সেটার মোকাবেলা কত কঠিন।

তিনি বলেছেন, আমার আত্মবিশ্বাস আমি ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু তারপরও এই ম্যাচে কারও পক্ষেই সহজ থাকা কঠিন।

১৯৬২ সালে বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ ছিল চিলি, সেবার তারা কোয়ার্টার ফাইন্যালে পৌঁছেছিল। এরপর তারা আর ঐ অবধি যেতে পারেনি। কিন্তু তারপরও তাদের আত্মবিশ্বাসে কোন ঘাটতি নেই।

দলের তারকা খেলোয়াড় আলেক্সিস স্যানচেজের ভাষায়, “ব্রাজিলকে আমি সমীহ করি। কিন্তু আজকের খেলায় আমরা তাদের হারাবো। আমরা এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়তে এসেছি।” সূত্র: বিবিসি

ঢাকা, ২৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ