২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তারপর ২০ ওভারের বিশ্বকাপে খেলেছে ১০টি ম্যাচ। কিন্তু জয়ের দেখা আর মেলেনি। এবার নিজেদের মাটিতেই বিশ্বকাপ। এতে অতীতের হারের রেকর্ড মুছে দিতে প্রতিজ্ঞ টাইগাররা। আর আগামীকাল রোববার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকাল সাড়ে ৩টায় শুরু হবে এই দুই দলের লড়াই।
এই বিশ্বকাপে দ্বি-স্তর বিশিষ্ট নতুন ফরম্যাটে প্রথম পর্বে দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে আটটি দল। এখানে সেরা হতে পারলে খেলতে পারবে বড় আটটি দলের সঙ্গে সুপার-১০ পর্বে। আফগানিস্তান ছাড়াও 'এ' গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল ও হংকং। তাই স্বাগতিকদের প্রথম ম্যাচটিই নির্ধারণ করে দিতে পারে কারা হবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ভয়টি বেশি হওয়ার কারণও রয়েছে। কারণ গত মাসেই এশিয়া কাপে এই আফগানদের কাছে হেরেছিল তারা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অঘটনের রেকর্ড আছে টাইগারদের। ২০০৯ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্টে জয়বঞ্ছিত ছিল তারা।
গত ১২ মাসের রেকর্ডটিও বেশি ভালো না বাংলাদেশের। ২০১২ সালে টি-টোয়েন্টিতে জয় মাত্র একটি। তাও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তাদের বিপক্ষে হেরেছেও একটি ম্যাচে। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষের একমাত্র ম্যাচেও হার। গত মাসে শ্রীলংকার বিপক্ষে চট্টগ্রামের মাটিতে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই শেষ বলে হেরেছিল লাল-সবুজের দল।
বিগত ম্যাচগুলো লক্ষ্য করতে দেখা যায় ব্যাটিং-বোলিং দুটিতে বেশ সমস্যায় রয়েছে বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটির সমস্যাটি নতুন নয়। তবে মিডল অর্ডারে মুশফিক, সাকিব ও নাসিরের উপর কিছুটা ভরসা রাখতে পারে তারা। শেষ দিকে সেই ব্যাটিং ব্যর্থতা। ফলে নিশ্চিত জয়ের অনেক ম্যাচ ফিনিশিংয়ের অভাবে হারতে হয়েছে। শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
ব্যাটের চেয়ে বোলিং সমস্যাটি আরো বেশি। পেসারদের নিয়েই অনেক ভাবতে হচ্ছে দলটিকে। তবে মাশরাফিকে নিয়ে আশার আলো দেখতে পারে তারা। স্পিন নির্ভর দলটিতে অল রাউন্ডার সাকিবের সঙ্গে থাকতে পারেন অভিজ্ঞ বোলার আব্দুর রাজ্জাক।
২০১৪ সালে ১১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয় না পাওয়া বাংলাদেশ প্রস্তুতি ম্যাচের দুটিতে জিতেছে। আরব আমিরাতকে হারানোর পর আয়ারল্যান্ডকেও হারিয়েছে বড় ব্যবধানে। গত ম্যাচে অভিষেক হওয়া সাব্বির রহমান তো স্বীকারই করেছেন, আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন তারা।
এদিকে এই বিশ্বকাপে যেন হারানোর কিছুই নেই আফগানিস্তানের। উল্টো এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফের হারানোর হুঙ্কার দিয়েছেন দলনেতা মোহাম্মদ নবী। প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথমটিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জিতলেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হেরেছে তারা। তবে মোহাম্মদ নবী, সামিউল্লাহ শেনওয়ারিসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় যে কোনো সময় জয় ছিনিয়ে নিতে পারেন। সেই ভরসায় তাকিয়ে আছেন তারা।
তবে পরিসংখ্যানের পাতায় যাই থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত কি হয় সেটা দেখার অপেক্ষায়...
খেলা
কাল রোববার মাঠে নামছে বাংলাদেশ
২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তারপর ২০ ওভারের বিশ্বকাপে খেলেছে ১০টি ম্যাচ।





