চার নভেম্বর শনিবার সিলেটের মাঠে শুরু হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ‘বয়কট’ করেছে জেলা ও মহানগর অাওয়ামী লীগ। টিকেট বিক্রিতে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠায় এবং সিলেটের ক্রীড়াপ্রেমীরা ও দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা টিকেট না পাওয়ায় দেশীয় ক্রিকেটের ঝলমলে আসর বয়টকের আহবান জানান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী।

০৩ নভেম্বর শুক্রবার বিকালে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেল হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি এ আহবান জানান। নেতাকর্মীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজের বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী বিপিএল উপভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। টিকেট পাননি। তাই আমি বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বয়কটের আহবান জানাচ্ছি।’

তার এই আহ্বানের সাথে সাথে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে উচ্চস্বরে সমর্থন জানান। আলোচনার সভায় সভাপতিত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘টিকেট বিক্রিতে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সিলেটের ক্রীড়াপ্রেমীরা টিকেট পায়নি। যথাযথ নিয়মে টিকেট বিক্রি হলে হয়ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটত না। জানি না কি কারণে এমনটি ঘটল। আমি ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মানুষ নই। যারা এর সাথে জড়িত তারাই ভালো বলতে পারবেন।’

শফিকুর রহমান চৌধুরীর বরাত দিয়ে কামরান জানান, বক্তব্যকালীন সময়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দল ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী বিপিএল’র টিকেট পায়নি। তাই আমি বিপিএল’র উদ্বোধনী আয়োজন দেখতে না যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ সে সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে সমর্থন দেন। আমরাও সমর্থন দিয়েছি।

একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যতটুকু জানি (শুক্রবার বিদাগত রাত নয়টায়) অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ আমরা যাচ্ছি না।’ তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বয়কটের সিদ্ধান্ত নয়। আমি বলছি তোমরা যেহেতু যাচ্ছো না, আমিও যাচ্ছি না। কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ভাইও যাচ্ছেন না।’

এক প্রশ্নের জবাবে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে শফিক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা তো মাগনা চাইনি, টাকা দিয়েও টিকেট পাইনি।’ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, ফয়জুল আনোয়ার আলাওর, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, জেলা পরিষদের সদস্য এ জেড রওশন জেবিন রুবা, মহসিন কামরান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ, সাবেক সহ-সভাপতি রশিদুল ইসলাম রাশেদ ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষার প্রমুখ।