আর্জেন্টিনার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে গুরুতর অসুস্থ থাকা হোর্হে মেসি রোসারিওর একটি হাসপাতালে মারা গেছেন।

ফুটবলবিষয়ক সংবাদমাধ্যম গোলও মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে। তবে তারা জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে হোর্হে মেসির শারীরিক অবস্থা নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, তিনি বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছিলেন।

বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে প্রথম গোল করার পর মেসিকে জার্সি দিয়ে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়। পরে মেসি জানান, ব্যক্তিগত একটি কারণে তিনি কেঁদেছিলেন, যার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি বলেছিলেন, ‘কঠিন কিছু দিনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম।’

এর কিছুদিন পর এক বিবৃতিতে মেসির পরিবার জানিয়েছিল, সিনিয়র মেসি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। বিশ্বকাপ শেষেই নিজের শহর রোজারিওতে গিয়েছিলেন মেসি। বাবার সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার ফেরেন ইন্টার মায়ামির হয়ে অনুশীলনে, এর মধ্যে খেলেছেন মায়ামির হয়ে।

লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারে তার বাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দীর্ঘদিন তিনি ছেলের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সিনিয়র মেসি পেশায় ছিলেন একজন প্রশিক্ষিত রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদ। এর আগে নিউয়েলসের যুবদলে মাঝমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে নিজেও ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তবে সামরিক চাকরির বাধ্যবাধকতায় খেলা ছেড়ে দিতে হয়।

নিউয়েলসের যুবদলে মেসি যখন আলোচিত এক প্রতিভা, তখন আর্জেন্টিনাতেই ছেলের হরমোন চিকিৎসার খরচ জোগাড়ের চেষ্টা করেন জর্জ। ক্লাব থেকে সাড়া না পেয়ে রিভার প্লেটে সুযোগের চেষ্টা করেন, তবে সেই আলোচনাও ভেস্তে যায়। শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার সঙ্গে এক ব্যতিক্রমী চুক্তি করাতে সক্ষম হন তিনি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেসিকে ক্লাবে ভেড়ানোর পাশাপাশি তার চিকিৎসা খরচ, বার্ষিক বেতন, থাকার ব্যবস্থা, পরিবারের জন্য চাকরির ব্যবস্থাও করে বার্সেলোনা।

বার্সেলোনায় শুরুর দিকের কঠিন সময়ে যখন পরিবার ইউরোপীয় জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছিল না, তখন ছেলের ইচ্ছাতেই সেখানে থেকে যান মেসি সিনিয়র। প্রচারমাধ্যম থেকে বেশিরভাগ সময়ই দূরে থাকতেন মেসির বাবা।

ছেলের ক্যারিয়ারের বাণিজ্যিক দিক ও বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্বও সামলাতেন হোর্হে মেসি।

এস