নটিংহ্যামে চতুর্থ টেস্টে সফরকারী অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ও ৭৮ রানের ব্যবধানে হারিয়ে অ্যাশেজ সিরিজ পুনরুদ্ধার করল ইংল্যান্ড। গত মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫-০ ব্যবধানে অ্যাশেজ সিরিজ হারলেও এবার এক ম্যাচ হাতে থাকতেই সেটা নিজেদের করে নিল তারা।

এই নিয়ে ৬৯ বার অ্যাশেজ সিরিজ জয় করল ইংলিশরা। সেই সঙ্গে দেশের মাটিতে টানা চারবার সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়ল তারা।

টেস্টের প্রথম দিনে মাত্র ১৮.৩ ওভারে ৬০ রানে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায়। তখনই তাদের হারের ঘণ্টা বেজে যায়। অবশেষে তৃতীয় দিনে সেটি বাস্তব রূপ ধারণ করে।

অসিদের পরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিন শেষে ২১৪ রানে লিড নিয়ে নেয় ইংল্যান্ড। স্বাগতিকরা ৩৯১ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করলে দ্বিতীয় দিনে ফের ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ওই দিন তাদের ইনিংস শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। অবশেষে ২৪১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে দিনটি পার করতে পারে তারা।

তবে শনিবার টেস্টের তৃতীয় দিনে মাত্র ১২ রান সংগ্রহ করতেই মোট ২৫৩ রানে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়ে যায়। ফলে ম্যাচ হারের সঙ্গে সিরিজেও হেরে যায় তারা।

দ্বিতীয় ইনিংসে অসিদের হয়ে লড়াই করেছিলেন তিন ব্যাটসম্যান। কিন্তু সেই লড়াই শুধু নিয়মরক্ষার লড়াই-ই ছিল। কারণ ক্রিস রজার্স, ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যাডাম ভোগস হাফ-সেঞ্চুরি করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। রজার্স ৫২ ও ওয়ার্নার ৬৪ রানে আউট হলেও ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন ভোগস। এই ইনিংসে বল হাতে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৬টি উইকেট শিকার করেছেন বেন স্টোকস।

তবে প্রথম ইনিংসে বল হাতে অসিদের ধ্বংস করেছেন ইংলিশ পেসার ব্রড। মাত্র ১৫ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ৮ উইকেট। তাই নটিংহ্যাম টেস্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটা উঠেছে তার হাতে।

আগামী ২০ আগষ্ট সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ৬০/১০, ১৮.৩ ওভার (অতিরিক্ত ১৪, মিচেল জনসন ১৩, মাইকেল ক্লার্ক ১০, স্টুয়ার্ট ব্রড ৮/১৫)

ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ৩৯১/৯ডি, ৮৫.২ ওভার (জো রুট ১৩০, জন বেয়ারস্টো ৭৪, মিচেল স্টার্ক ৬/১১১)

অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৫৩/১০, ৭২.৪ ওভার (ডেভিড ওয়ার্নার ৬৪, ক্রিস রজার্স ৫২, বেন স্টোকস ৬/৩৬)

ফল: ইংল্যান্ড ইনিংস ও ৭৮ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: স্টুয়ার্ট ব্রড (ইংল্যান্ড)

সিরিজ: পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে ইংল্যান্ড

জেডআই