আলোক্রিকেটার শাহাদাত হোসেনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। ‘মানবিক কারণে’তাঁর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগে গত বছর একটি মামলার আসামি হওয়ার পর বিসিবি তাঁর খেলার ব্যাপারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। গত বিপিএল তো বটেই, এবারের প্রিমিয়ার লিগেও খেলতে পারেননি শাহাদাত। ক্রিকেট তাঁর রুটি-রুজি। অতীত কৃতকর্মের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়​টি মানবিক দিক দিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছিলেন এই পেসার। অবশেষে আজ তাঁর আবেদনে সাড়া দিল বিসিবি।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মানবিক কারণে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি শাহাদাতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শাহাদাতও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছিলেন।’

শাহাদাত আপাতত কেবল ঘরোয়া ক্রিকেটেই খেলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বিসিবি নির্বাহী, ‘আপাতত সে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে পারবে। তাঁর মামলার নিষ্পত্তির পর সে যদি নির্দোষ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারে, তখনই সে জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হবে।’

১১ বছর বয়সী গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল শাহাদাতের বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় মিরপুরে তাঁর বাসা থেকে গৃহকর্মীকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তাঁর শরীরের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

পরে শাহাদাতের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা হয়। মামলার অন্যতম আসামি তাঁর স্ত্রীও। মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। তবে আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, ক্রিকেট যেহেতু শাহাদাতের জীবিকা, সেটি খেলতে আদালতের তরফ থেকে কোনো মানা নেই।

যখন তাঁকে নিষিদ্ধ করা হয়, তখন তাঁর অপরাধ প্রমাণ হয়নি। এখন নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের আগেই কেন তাঁকে খেলার অনুমতি দেওয়া হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিসিবি অবস্থান বদলায়নি। তাঁকে কেবল ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আদালত থেকে পুরোপুরি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহালই থাকবে। শাহাদাতের আবেদনটা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা হয়েছে। সে একজন পেশাদার ক্রিকেটার। তাঁর আয়ের একমাত্র উৎস ক্রিকেট। সে বেশ কিছুদিন ক্রিকেটের বাইরে ছিল। ফলে সে ও তাঁর পরিবার আর্থিক দিক দিয়েও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

ব্যাপারটা বাজে উদাহরণ হয়ে থাকবে না বলেই অভিমত বিসিবির প্রধান নির্বাহীর, ‘সে একটা ভুল করে ফেলেছে। সেই ভুলের মাশুল সে দিচ্ছে। সে অনুতপ্ত এবং দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও সে চেয়েছে। মামলার বাদীর সঙ্গেও তাঁর সমঝোতা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সবকিছু বিবেচনা করেই আমরা তাঁর খেলার অনুমতি দিচ্ছি।’

এমআর