মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ওয়াডেতে ওপেনার ইমরুল কায়েসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। ৩৫.১ ওভার শেষে টাইগারদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২১৮ ।

জয়ের জন্য দরকার আরো ৯২ রান। ইমরুল কায়েস ১০৫ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক পূর্ন করেন।

বলা যায় আজ একাই লড়াই করছেন ইমরুল কায়েস। ১৫৩ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ার পর তার সাথে জুটি বেঁধেছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এখন পর্যন্ত এই জুটির সংগ্রহ।

বিদায় নিয়েছেন তামিম ইকবাল ১৭, সাব্বির রহমান ১৮, মাহমুদুল্লাহ ২৫ ও মুশফিক ১২ রান করেছেন। 

এর আগে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের প্রদর্শনীর পর ৮ উইকেটে ৩০৯ রান করে ইংল্যান্ড। ফলে সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিততে হলে ৩১০ রান করতে হবে টাইগারদের। 

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতেই প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জশ বাটলার। শুরুতে দেখে-শুনে খেললেও, ধীরে ধীরে মারমুখী হতে থাকেন ইংলিশদের দুই ওপেনার জেসন রয় ও জেমস ভিন্স।

৭ ওভার শেষে ৪১ রানও তুলে ফেলেন তারা। তবে অস্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে ভিন্সকে শিকার বানিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার শফিউল ইসলাম। ২০ বলে ১৬ রান করেন ভিন্স। 

তবে ওই সময় বাংলাদেশের মাথা ব্যথার কারণ ছিলেন আরেক ওপেনার জেসন রয়। মারমুখী মেজাজেই ছিলেন তিনি। বলের সাথে পাল্লা দিয়েই রান তুলেছিলেন রয়। কিন্তু মুখোমুখি হওয়া নিজের ৪০তম বলে আউট হন রয়।

স্পিনার সাকিব আল হাসানকে ওভার বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে লং-অফে সাব্বির রহমানের তালুবন্দি হন রয়। ৫টি চার ও একটি ছক্কায় ৪১ রান করেন তিনি।

রয়ের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন জনি বেয়ারস্টো। রানের খাতা খোলার আগেই বেয়ারস্টোকে প্যাভিলিয়নে ফেরান সাব্বির। বোলার হিসেবে নয়, ফিল্ডার হিসেবে দুর্দান্ত এক সরাসরি থ্রোতে বেয়ারস্টোকে রান আউট করেন সাব্বির। ফলে ১২ দশমিক ৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৬৩ রানে পরিণত হয় ইংল্যান্ড।

এই ১২ ওভারে শুধুমাত্র বোলিং দিয়েই নয়, ফিল্ডিং-এও বাংলাদেশ ছিলো দুর্দান্ত। বিশেষভাবে সাব্বির ও বাংলাদেশ দলনেতা মাশরাফি। দারুণ কিছু ফিল্ডিং-এ ইংল্যান্ডের বেশকিছু রানও আটকে দিয়েছেন সাব্বির ও মাশরাফি। কিন্তু পরের দিকে যে এই ফিল্ডিং-ই কাল হবে বাংলাদেশের, তা কিন্তু কেউই ভাবেনি।

তৃতীয় উইকেট পতনের পর চতুর্থ উইকেটে জুটি বাঁধেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা বেন ডাকেট ও বেন স্টোকস। দ্রুত উইকেটের সাথে মানিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন তারা। ফলে ২৮তম ওভারের প্রথম বলেই দেড়শ’ পেরিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

তাই বাংলাদেশকে খেলার ফেরানোর জন্য দু’প্রান্ত দিয়ে বোলিং আক্রমণে বেশক’টি পরিবর্তনও আনেন মাশরাফি। সেই পরিবর্তন কাজও দেয়। কিন্তু ফিল্ডারদের সহজ ভুলে হতাশায় ডুব দেয় বাংলাদেশ।

৩০তম ওভারে বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের দ্বিতীয় বলে মিড-অনে ক্যাচ দিয়েছিলেন স্টোকস। কিন্তু সেই ক্যাচ ফেলে দেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তখন স্টোকস ৬৯ রানে দাঁড়িয়ে।

পরের ওভারে মাশরাফির বলে আবারো ক্যাচ দেন স্টোকস। কিন্তু ডিপ কভারে সেই ক্যাচ ফেলেন মোশাররফ রুবেল। এখানেই থেমে থাকেনি বাংলাদেশ ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের মহড়া। এরপর ব্যক্তিগত ৫৯ রানে থাকা ডাকেটের ক্যাচ ফেলেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা।

এরই মাঝে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন স্টোকস। ৯৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন স্টোকস। তবে ১০১ রানেই থেমে যেতে হয় তাকে। মাশরাফির প্রথম শিকার হন স্টোকস। ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন তিনি।

স্টোকসের আগে প্যাভিলিয়নে ফিরেন ডাকেট। ৬টি চারের সহায়তায় ৭৮ বলে ৬০ রান করেন তিনি। চতুর্থ উইকেটে স্টোকসের সাথে ১৫৯ বলে ১৫৩ রান যোগ করেন ডাকেট।

ডাকেট ও স্টোকসের পর ইংল্যান্ডের ইনিংসকে ৮ উইকেটে ৩০৯ রানে পৌঁছে দিয়েছেন অধিনায়ক বাটলার। ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৩৮ বলে ৬৩ রান করেছেন বাটলার।

এ ছাড়া ক্রিস ওয়াকস ১৫ বলে ১৬ রান করেন। ইনিংসের শেষদিকেও নিজেদের ব্যর্থতা প্রদর্শন করেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। বাংলাদেশের মাশরাফি, শফিউল ও সাকিব ২টি করে উইকেট নেন।

এমবি