আর মাত্র কদিন পর ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে বসতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ২০তম আসর। ১২ জুন ব্রাজিল বনাম ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা ওঠবে ‘গ্রেটেস্ট শো অব দ্য আর্থের’। ইতোমধ্যে সর্বাধিক ৫টি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে স্বাগিতক দেশ ব্রাজিল। এবারও হোম গ্রাউন্ডে শিরোপার জন্য ফেভারিট ধরা হচ্ছে নেইমারের দলকে।
যুগে যুগে বিশ্ব ফুটবলকে ব্রাজিলের শাসন করার নেপথ্যে রয়েছে তাদের ফুটবল তারকাদের উত্থান। যাদের ফুটবল মেধার কথা এখনো স্মরণ করে ফুটবল প্রেমীরা। সাম্বা বালকদের দেশের সর্বকালের সেরা ১০ ফুটবলার সম্পর্কে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হয়েছে কিছ কিছু তথ্য।
১০. রবার্তো রিভেলিনো (১৯৬৫-৭৮, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৯২টি, গোল ২৬টি): স্বাগতিক ব্রাজিলের হয়ে যারা ফুটবল বিশ্বে আলো ছড়িয়েছেন তাদের মধ্যে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় ১০ অবস্থানে রয়েছে এই ফুটবল তারকা। নিখুত পাস, সুক্ষ্ম ফুটবল শৈলী এবং ফ্রি-কিকের জন্য বিখ্যাত ছিলেন তিনি।
১৯৭০ সালের বিশ্বকাপের দলে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। অনেকে ব্রাজিলের ওই দলটিকে সর্বকালের সেরা দল হিসেবেও বিবেচনা করে থাকেন। মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টে যোগ্যতা প্রদর্শনের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন তিনি। সেবার শিরোপা জয়ের পর ১৯৭৪ ও ১৯৭৮ সালের শিরোপাও ঘরে তোলে ব্রাজিল।
৯. জাইরজিনহো (১৯৬৪-৮২, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৮১টি, গোল ৩৩টি): ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের আরেক নায়ক। তিনি ব্রাজিল দলে যোগ দিয়ে প্রমাণ করেন কোন কিছুই অসম্ভব নয়। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করার এক অনন্য নজীর সৃষ্টি করেন এই উইঙ্গার। তার পারফর্মেন্সের কল্যাণে ওই আসরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপা জয় নিশ্চিত হয়। মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্ট তিনি সাত গোল করেন। চার বছর পর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তার করা দুই গোলে ভর করে সেমি-ফাইানালে পৌঁছে যায় ব্রাজিল।
৮. সক্রেটিস (১৯৭০-৮৬, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৬০টি, গোল ২২টি): তিনি ছিলেন ব্রাজিল দলের একজন অতৃপ্ত মহানায়ক। দীর্ঘদেহী এবং রুচিশীল এই মিডফিল্ডার ১৯৮২ সালে জিকো, ফ্যালকাও ও ইডরকে নিয়ে এমন এক মধ্যমাঠ সৃষ্টি করেছিলেন যা ছিল এক অর্থে ভয়ঙ্কর। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন এবং দু’টি গোল করেন। ১৯৮৩ সালে দক্ষিণ আমেরিকার সেরা খেলোয়াড়ের খেতাবও লাভ করেন সক্রেটিস।
৭. কাফু (১৯৯০-২০০৬, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ১৪২টি, গোল ৫টি): ব্রাজিলের হয়ে সর্বাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেয়া সবচেয়ে স্পেশাল খেলোয়াড় হচ্ছেন কাফু। তিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে ১৪২বার জাতীয় দলের পোশাক জড়িয়েছেন গায়ে। এতেই তার দক্ষতার প্রমাণ মিলে। বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে কাফু হচ্ছেন একমাত্র খেলোয়াড় যিনি তিনটি আলাদা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার নজীর স্থাপন করেছেন। ক্লান্তিহীন এই রাইট ব্যাক পরপর ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ব্রাজিলের ১৯৯৪ ও ২০০২ বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ী দলেরও গর্বিত সদস্য ছিলেন।
১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে কাফু ২১টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন। তন্মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক ১৬টি ম্যাচে জয়লাভ করেছেন। ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আমেরিকের বর্ষসেরা ফুটবলের খেতাব লাভ করেন কাফু।
৬. রোনালদিনহো (১৯৯৯-বর্তমান, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৯৭টি, গোল ৩৩টি): সেরা সময়ে ফুটবল ইতিহাসের খুব কম সংখ্যক খেলোয়াড় রয়েছে যারা রোনালদিনহোর সমকক্ষ দাবি করতে পারেন। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের প্রধান নায়ক ছিলেন তিনি।
৫. রোমারিও (১৯৮৭-২০০৫, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৭০টি, গোল ৫৫টি): ‘গোল এলাকার জিনিয়াস’ হিসেবে বর্ণনা করা যায় রোমারিওকে। ১৯৯৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছিলেন তিনি। ব্যক্তিগতভাবে ১৯৯৪ সালে তিনি ফিফা বিশ্বকাপের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় এবং ২০০০ সালে দক্ষিণ আমেরিকার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কাল লাভ করেন।
৪. জিকো (১৯৭৬-৮৬, আন্তর্জাতিকম্যাচ ৭১টি, গোল ৪৮টি): আইএফএফএইচএস-এর তালিকায় বিংশ শতাব্দির অষ্টম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জিকোকে। ব্রাজিলের জাতীয় দলের হয়ে ৭১টি ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি গোল করেছেন ৪৮টি। যা তাকে দেশটির চতুর্থ সেরা গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। ১৯৮২ সালসহ তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও শিরোপা একবারের জন্য জোটেনি জিকোর ভাগ্যে।
৩. রোনালদো (১৯৯৪-২০১১, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৯৮, গোল ৬২): অনেকে মনে করেন এ পর্যন্ত যারা ফুটবল খেলেছেন তাদের মধ্যে সেরার আসন অলংকৃত করার যোগ্যতা রয়েছে পরিপূর্ণভাবে ফিটে থাকা রোনালদো। তবে এটিও দু:খজনকভাবে মানতে হচ্ছে যে ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়েই ইনজুরির সঙ্গে কাটিয়েছেন তিনি। তারপরও তিনি ক্যারিয়ারে তিনবার ফিফা বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের খেতাব অর্জন করেছেন।
‘দি ফেনোম্যান’ খেতাবের অধিকারী ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলে ছিলেন। ১৯৯৮ সালের ফাইনালের আগের রাতে তিনি ইনজুরির কবলে পড়ে যান। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ী দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন রোনালদো। চতুর্থ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটি দখল করেন। ১৫তম গোল করে তিনি টপকে যান জেরার্ড মুলারকে। শুধু তাই নয় ৬২ গোল করে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান লাভ করেন রোনালদো।
২. গ্যারিনচা (১৯৫৫-৬৬, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৫০টি, গোল ১২টি): ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে যদি পেলের চেয়ে সেরা হিসেবে কাউকে মনোনীত করা হতো তাহলে সেই জায়গাটি লাভ করতেন এই ফুটবল কিংবদন্তী। জন্মের সময় শারিরিক কিছু প্রতিবন্ধকতা নিয়ে পৃথিবীর আলোতে আসা এই তারকা নিজেকে সর্বকালের সেরা তারকাদের কাতারে ঠিকই পৌঁছে দিয়েছেন। ফুটবলের ইতিহাসে সেরা ড্রিবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা গ্যারিনচা দু’টি বিশ্বকাপ শিরোপাসহ জয় করেছেন ক্লাব পর্যায়েরও শিরোপা।
বিংশ শতাব্দির শ্রেষ্ঠ ফুটবলারদের তালিকায় সপ্তম স্থান লাভ করা এই ব্রাজিলীয় তার ক্যারিয়ারের ৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে একবার মাত্র হারের মুখ দেখেছেন। আর সেই হারটি এসেছিল জাতীয় দলের হয়ে তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিতে।
১. পেলে (১৯৫৭-৭১, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৯২টি, গোল ৭৭টি): ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন পেলে। বর্ণিল ক্যারিয়ারে পেলে নিজেকে এমন এক রেকর্ডে পৌঁছে দিয়েছেন যেটি এখনো পর্যন্ত আর কেউ ভাঙ্গতে পারেনি। ফুটবল ক্যারিয়ারে তার ১২৮১ গোলের রেকর্ডটি ফিফার অফিসিয়াল রেকর্ডের শীর্ষস্থান দখল করে রয়েছে। আর তিনিই হলেন ফুটবল ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় যিনি তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের মেডেল লাভ করেছেন। তন্মধ্যে দু’টি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছেন পেলে নিজে। কৈশোর বয়সে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে পা রাখা এই ফুটবলার ১৯৭০ সালে নিজেকে বসিয়ে দেন ফুটবলের রাজার আসনে।
ঢাকা, ২৩মে (টাইমনিউজবিডি) //জেডআই
খেলা
ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা ১০ ফুটবল তারকা
আর মাত্র কদিন পর ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে বসতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ২০তম আসর। ১২ জুন ব্রাজিল বনাম ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা ওঠবে ‘গ্রেটেস্ট শো অব দ্য আর্থের’। ইতোমধ্যে সর্বাধিক ৫টি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে স্বাগিতক দেশ ব্রাজিল। এবারও হোম গ্রাউন্ডে শিরোপার জন্য ফেভারিট





