আরব আমিরাতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপে শুভ সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। রবিবার কলম্বোর পি সারা ওভালে নেপালকে ৬ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

এদিন টস জিতে নেপালকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রন জানায় বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে হারিয়ে ২৬১ রান করে নেপাল। ২৬২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৪ বল হারে রেখে ছয় উইকেটের জয় তুলেনেয় টাইগার কিশোররা।

আমিরাতের বিপক্ষে ৪৫ করা জুনিয়র তামিম এদিন আউট হন ব্যক্তিগত ৯ রানে। আর অনিক ফেরেন মাত্র ৫ রান করে। এ দুজনের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন মাহমুদুল হাসান জয় ও তৌহিদ হৃদয়। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলের সংগ্রহে যোগ করেন মূল্যবান ৭৯ রান।

এসময় তিন চারে ৪০ (৫৬) রান করা মাহামুদুল হাসানকে সাজঘরে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নেপালের হরি বাহাদুর। এরপর হৃদয়ের সঙ্গে জোট বাঁধেন দলীয় অধিনায়ক আকবর আলি। নেপালি বোলারদের দেখেশুনে খেলতে থাকেন তারা।

এরই মাঝে ব্যক্তিগত ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নেন হৃদয়। ফিফটির পর অবশ্য নিজ ইনিংসকে বেশি বড় করতে পারেননি এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। ১০ রান যোগ করে ফিরেছেন ৬০ রানে। তার ৮৮ বলের ইনিংসে ছিল তিনটি চারের মার।

হৃদয় আউট হলেও ভেঙে পড়েনি জুনিয়র টাইগাররা। অলরাউণ্ডার শামিম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন দলপতি আকবর আলি। শেষ পর্যন্ত খেলে দলের জয় নিশ্চিত করে তবেই মাঠ ছাড়েন এ দুজন। মূলত পঞ্চম উইকেট জুটিতে তাদের ১৩০ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটিতেই ৬ উইকেটের আরেকটি বড় জয় তুলে নেয় টাইগাররা।

ম্যাচে মাত্র ২ রানের জন্য আফসোসে পুড়লেও দলের জয়ে অবদান রেখে ম্যাচ সেরা হন যুবা ক্যাপ্টেন আকবর আলি। ৯৮ রানে অপরাজিত থাকেন এ উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান। তার অনবদ্য ঝোড়ো এ ৮২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪টি দৃষ্টিনন্দন চারের মার। অন্য প্রান্তে শামিম খেলেন ৪৫ বলে চার বাউণ্ডারিতে অপরাজিত ৪২ রানের ইনিংস।

এদিকে এ জয়ের ফলে দুই ম্যাচে টানা দুই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখলো জুনিয়র টাইগাররা। একইসঙ্গে নেট রান রেটে বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকার সুবাদেই এক ম্যাচ হাতে রেখে নিজেদের সেমিফাইনালের পথটা একপ্রকার নিশ্চিত করে রাখলো আকবর আলির দল।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করেন নেপালের দুই ব্যাটসম্যান রিত গৌতম ও পাওয়ান শারাফ। উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৪৫ রান। ৩২ রান করা গৌতমকে ফিরিয়ে টাইগার শিবিরে স্বস্তি আনেন রাকিবুল হাসান।

এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে কুশল মাল্লারকে নিয়ে ৩৯ ও রোহিত কুমারের সঙ্গে মূল্যবান ৬৬ রানের জুটি গড়েন পবন সাররফ।

দলীয় ১৭৩ রানের মাথায় পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসাবে সাজঘরে ফেরার আগে পবন খেলে যান ৮১ রানের অনবদ্য এক ইনিংস।

আর শেষদিকে সন্দ্বীপ জোরার ৫৬ ও ভীম শারকির ২১ রানের উপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬১ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করে নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

টাইগারদের পক্ষে তাঞ্জিম হাসান সাকিব ও শাহিন আলম শিকার করেন দুটি করে উইকেট। আর বাকি চার উইকেট ভাগ করে নেন রাকিবুল, মৃত্যুঞ্জয়, মিনহাজুর ও হৃদয়। বি গ্রুপ থেকে টাইগারদের শেষ ম্যাচ স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর।

এএস