ইতালির ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত মাজ্জোলা পুরো ১৭ বছরের ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন ইন্টারে। ১৯৬১ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত নেরাজ্জুরিদের জার্সিতে ৫৬৫ ম্যাচে ১৫৮ গোল করেছেন তিনি। জিতেছেন চারটি সিরি আ, দুটি ইউরোপিয়ান কাপ ও দুটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ।

ইতিহাস গড়ার পথে ১৯৬৪ সালের ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন মাজ্জোলা। তার পারফরম্যান্সে ৩-১ ব্যবধানে জিতে প্রথমবারের মতো ইউরোপসেরা হয় ইন্টার। পরের বছরও শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

ক্লাব ফুটবলের সাফল্যের পাশাপাশি জাতীয় দলেও উজ্জ্বল ছিলেন মাজ্জোলা। ইতালির হয়ে ৭০ ম্যাচে করেছেন ২২ গোল। ১৯৬৮ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ইতালিকে ফাইনালেও তুলেছিলেন।

ফুটবল ছিল মাজ্জোলার পারিবারিক উত্তরাধিকারও। তার বাবা ভ্যালেন্তিনো মাজ্জোলা ছিলেন তোরিনোর কিংবদন্তি। ১৯৪৯ সালে সুপারগা বিমান দুর্ঘটনায় তোরিনোর পুরো দলসহ প্রাণ হারান তিনি। তখন সান্দ্রোর বয়স মাত্র ছয় বছর। বাবার মতোই ইতালিয়ান ফুটবলে ইতিহাস গড়েন মাজ্জোলা।

১৯৭৭ সালে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পরও ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরে ইন্টার ও তোরিনোর স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে জায়গা পান ইতালিয়ান ফুটবল হল অব ফেমে।

ইন্টার এক শোকবার্তায় মাজ্জোলাকে ক্লাব ও বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে স্থায়ী ছাপ রেখে যাওয়া কিংবদন্তি হিসেবে স্মরণ করেছে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনও।

এমএম