আফগান প্রিমিয়ার লিগের রোববারের ম্যাচটা মনে হচ্ছিল গেইল ঝড়ই বয়ে যাবে। হয়েছেও তাই। বাল্খ লিজেন্ডের হয়ে নেমে এদিন রান আউট হওয়ার আগে ৪৮ বলে ৮০ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন এই ক্যারিবিয় দানব।

গেইলের দেখানো পথে হাঁটেন দলের অন্য ব্যাটসম্যানরাও। ফলে তাদের ঝড়ো ইনিংসের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৪ রান তোলে বাল্খ।

কিন্তু গেইলের ঝড়ের প্রকোপ থামতেই শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তাণ্ডব শুরু করে দেন কাবুল জাওনানের হজরতুল্লাহ জাইজাই। মাত্র ১৭ বলে ৬২ রানের দুর্ধর্ষ এক ইনিংস খেলেন তিনি। এদিন তিনি ছক্কা মেরেছেন ৭টি। যার মধ্যে ৬টিই মেরেছেন আবদুল্লাহ মাজারির এক ওভারে।

২০ বছর বয়সী আফগান এই তরুণ ইতিহাসের ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে এক ওভারে ৬টি ছক্কা মারেন। আর টি-টুয়েন্টিতে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এমন ঘটনা ঘটল।

এক ওভারে ৬টি ছক্কা মেরেছেন যারা :

ব্যাটসম্যান ফরম্যাট বোলার সাল স্যার গ্যারি সোবার্স প্রথম শ্রেণি ম্যালকম ন্যাশ ১৯৬৮
রবি শাস্ত্রি প্রথম শ্রেণি তিলক রাজ ১৯৮৫ হার্শেল গিবস ওয়ানডে ড্যান ভ্যান বুঙ্গে ২০০৭
যুবরাজ সিং

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি স্টুয়ার্ট ব্রড ২০০৭ রস হুইটলি টি-টুয়েন্টি কার্ল ক্র্যাভার ২০১৭
হজরতুল্লা জাজাই টি-টুয়েন্টি আবদুল্লাহ মাজারি ২০১৮

এর আগে এক ওভারে ছয় ছক্কা মারার রেকর্ড গড়েছিলেন স্যার গ্যারি সোবার্স, রবি শাস্ত্রি, হার্শেল গিবস, যুবরাজ সিং এবং রস হুইটলি। এদিন মাত্র ১২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে টি-টুয়েন্টির দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন জাজাই। এর আগে ১২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন গেইল ও যুবরাজ সিং।

এদিন অবশ্য শেষ হাসিটা হাসেন গেইলরাই। লক্ষ্য থেকে ২২ রান আগেই কাবুলের ব্যাটসম্যানদের থামিয়ে দেয় বাল্খের বোলাররা। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২২৩ রান করতে পারে কাবুল। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন গেইল।

সবমিলিয়ে এই ম্যাচে ছক্কা মারা হয় ৩৭টি। যার মধ্যে বাল্খের খেলোয়াড়রা মেরেছেন ২৩টি। গেইল ১০টি, দিলশান মুনাওরা ৩টি, দারুইশ রাসুলি ৫টি, মোহাম্মদ নবি ৩টি ও মিরোয়াইশ আশরাফ ২টি। আর কাবুলের ব্যাটসম্যানরা মেরেছেন ১৪টি। হরজতুল্লাহর ৭টি ছাড়াও লুক রঞ্চি ১টি, শাহিদুল্লাহ, কলিন ইনগ্রাম ও রশিদ খান ২টি করে ছক্কা মারেন।