নিউইয়র্কের ফ্ল্যাশিং মিডোতে শুরু হচ্ছে বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ইউএস ওপেনের জমজমাট লড়াই। সোমবার শুরু হচ্ছে এই লড়াই।

পুরুষ ও মহিলা দুই বিভাগেই সিঙ্গেলস ও ডাবলসের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরুষ ও মহিলা দুই বিভাগেই শীর্ষ বাছাই হিসেবে যথাক্রমে কোর্টে নামছেন বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকা নোভাক জকোভিচ ও সেরেনা উইলিয়ামস।

এবারের ড্র অনুযায়ী বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড় রজার ফেদেরার ও অষ্টম বাছাই রাফায়েল নাদালের ফাইনালের আগে দেখা হবার কোন সম্ভাবনা নেই। ৩১টি মেজর শিরোপা একে অপরের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়া এই দুই তারকা ইউএস ওপেনের ক্রসরোড ধরেই সামনে এগিয়ে যাবেন। ৩৪ বছর বয়সী ফেদেরার গত সপ্তাহে সিনসিনাতি মাস্টার্সে জকোভিচকে পরাজিত করে সাতবারের মত শিরোপা জয় করে দারুন ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। সুইস তারকার এটি ছিল ৮৭তম এটিপি শিরোপা। গত মাসে সার্বিয়ান তারকার কাছে টানা দ্বিতীয়বারের মত উইম্বলডনের ফাইনালে হারের প্রতিশোধ হিসেবেও অনেকে ম্যাচটিকে বিবেচনা করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতীক সময়ে নিউ ইয়র্কে ফেদেরারের রেকর্ড খুব একটা ভাল যাচ্ছে না। ২০০৪-০৮ পর্যন্ত পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ফেদেরার ২০০৯ সালে হুয়ান মার্টিন ডেল পোত্রোর কাছে পরাজিত হয়ে রানার্স-আপ হয়েছিলেন। কিন্তু তারপর থেকে আর ফাইনালে খেলতে পারেননি। গ্র্যান্ড স্ল্যামে এই বছর তার রেকর্ডও মিশ্র। সাতবারের উইম্বলডন বিজয়ী সুইস তারকা অল ইংল্যান্ড ক্লাবে অন্তত ফাইনালে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তৃতীয় রাউন্ডেই তাকে বিদায় করে দিয়ে অঘটন ঘটিয়েছিলেন ইতালিয়ান আন্দ্রেস সিপ্পি। গত ১৪ বছরে মেলবোর্নে এটাই ফেদেরারের সবচেয়ে বাজে রেকর্ড। রোলা গ্যাঁরোতে কোয়ার্টার ফাইনালে স্বদেশী স্ট্যান ওয়ারিঙ্কার কাছে কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায় নেন। সর্বশেষ ২০১২ সালে উইম্বলডনের মাধ্যমে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছিলেন ফেদেরার। চলতি বছর যদি ইউএস ওপেন জিততে পারেন তবে ১৯৭০ সালে ৩৫ বছর বয়সী কেন রোসওয়ালের পরে সবচেয়ে বেশী বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের কৃতিত্ব দেখাবেন ফেদেরার। প্রথম রাউন্ডে তার প্রতিপক্ষ বিশের ৩৩ নম্বর খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার লিওনার্দো মায়ার।

পুরুষ এককে আসন্ন ইউএস ওপেন টেনিস টুর্নামেন্টের কোয়ার্টারফাইনালেই দেখা হয়ে যেতে পারে শীর্ষ বাছাই সার্বিয়ার নোভাক জকোভিচ ও অষ্টম বাছাই স্পেনের রাফায়েল নাদালের। ইউএস ওপেনের ড্র তেমনটাই বলছে। শেষ আটে দ্বিতীয় বাছাই সুইজারল্যান্ডের রজার ফেদেরারের প্রতিপক্ষ হতে পারেন ষষ্ঠ বাছাই চেক প্রজাতন্ত্রের টমাস বার্ডিচ। কোয়ার্টারফাইনালে নাদাল বাঁধা পেরোতে পারলে সেমিফাইনালে জকোভিচের প্রতিপক্ষ হবেন চতুর্থ বাছাই জাপানের কেই নিশিকোরি।

এদিকে মহিলাদের বিভাগেও জোড় লড়াইয়ের আভাষ পাওয়া গেছে। ড্র অনুযায়ী টুর্নামেন্টে মেয়েদের এককে কোয়ার্টারফাইনালে দেখা হয়ে যেতে পারে উইলিয়ামস পরিবারের দুই কন্যা যুক্তরাষ্ট্রের সেরেনা ও ভেনাসের। শেষ আটের ম্যাচ জিতলে সেমিফাইনালে রুশ তারকা মারিয়া শারাপোভার সাথে লড়তে হবে সেরেনাকে।

শীর্ষ বাছাই হিসেবে আসন্ন আসরের কোর্টে নামবেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সেরেনা। প্রথম রাউন্ডের তার প্রতিপক্ষ অবাছাই রাশিয়ার ভিটালিয়া ডাইয়েটচেঙ্কোর। প্রথম রাউন্ড থেকে সব ম্যাচ জিতলে কোয়ার্টারফাইনালে সেরেনার প্রতিপক্ষ হবেন ভেনাস। আর সেমিফাইনালে দেখা হয়ে যাবে সেরেনা ও শারাপোভার। তৃতীয় বাছাই হিসেবে এবারের আসর শুরু করা শারাপোভা প্রথম রাউন্ডে মুখোমুখি হবেন স্বদেশী দারিয়া গাবরিলোভার।

সেরেনার সাম্প্রতীক সাফল্যে যেকোন টুর্নামেন্টের আগেই তার আধিপত্য নিয়ে অন্য খেলোয়াড়দের কিছুটা হলেও ভীত হবারই কথা। কিন্তু এসব কিছুকে পিছনে ফেলে সেরেনার চ্যালেঞ্জকে প্রতিহত করার জন্য অন্য খেলোয়াড়দের প্রতি আহবান জানিয়েছেন শারাপোভা। হাঁটুর ইনজুরির কারনে উইম্বলডনের সেমিফাইনালে পর থেকে আর কোর্টে নামা হয়নি রুশ তারকার। কাল থেকে শুরু হওয়া ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে হয়ত দেখা হতে পারে সেরেনা-শারাপোভার। টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন সেরেনা ঘরের মাঠের এই গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের মাধ্যমে এক ক্যালেন্ডার বছরে স্টেফি গ্রাফের পরে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে সবকটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের সুযোগ কোনমতেই হাতছাড়া করতে চাইবেন না। আর সে কারনেই সেরেনার বিপক্ষে কোন খেলোয়াড়ই যে খুব একটা সহজে পার পাবেন না এটা সহজেই অনুমেয়। শারাপোভা বলেছেন, সে অন্য এক পর্যায়ে টেনিস খেলে থাকে, যার কোন তুলনা নেই। আমাদেরও সেই পর্যায়ে নিজেদের নিয়ে যেতে হবে। এজন্য অবশ্যই ভাল পারফর্ম করতে হবে।

জেডআই