আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০তম জন্মদিন। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ উপলক্ষে বছর ব্যাপি দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। যা থেকে বাদ যায়নি দেশের ক্রীড়া সংগঠনগুলো।
অন্যসব ক্ষেত্রের মতো ক্রীড়াক্ষেত্রেও 'অনন্য' ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের ম্যাচ উপভোগে প্রায়ই ছুটে যেতেন স্টেডিয়ামে। খেলোয়াড়দের বাসায় ডেকে নিয়ে করতেন অনুপ্রাণিত। বিশেষ অবদান রেখেছিলেন বিভিন্ন ফেডারেশন গঠনেও। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উলক্ষ্যে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয় শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) থেকে।
বাংলাদেশের স্থপতি, স্বপ্নদ্রষ্টা কিংবা রাষ্ট্রনায়ক। যখনই যে বরমাল্য-ই তার গলায় শোভা পাক না কেন, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াকে ভালোবেসে গেছেন আমৃত্য। শৈশব, কৌশর, যৌবনে নিজে ছিলেন খেলোয়াড়, আবার মহান মুক্তিযুদ্ধ শেষে, ভঙ্গুর বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন ক্রীড়াঙ্গনেও।
রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়েও একজন মাঠের মানুষ। একজন ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ ব্যক্তি, একজন দূরদর্শী নেতা।
স্কুলে ফুটবল ও ভলিবল দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন খোকা। হার্টের ব্যারাম ভুগিয়েছে বেশ তবে রুখতে পারেনি। ৪০ এর দশকে ঢাকা ওয়ান্ডরার্সের হয়ে খেলেছেন ফুটবল। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিও তার ছিলো তীব্র অনুরাগ।
ভালোবাসার সে বহিঃপ্রকাশের প্রমাণ মেলে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেয়ার পরপরই। ১৯৭২'র ১৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুরের ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাঠে গড়ায় স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ফুটবল ম্যাচ। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী সেদিন একসঙ্গে বসে উপভোগ করেছিলেন খেলাটি।
এরপর কোলকাতা মোহনবাগান, কোলকাতা মোহামেডান কিংবা রাশিয়ার মিনস্ক ডায়নামো। যতবারই এসেছে বাংলাদেশে ততবারই মাঠে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু। শুধু তাই নয়, জাতীয় দল কিংবা ক্লাব ফুটবল, বিদেশে কোন টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার আগে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিলো নিয়মিত চিত্র।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রশাসনিকভাবে এক রূপ ছিলো, আবার ক্রিড়াঙ্গনে ওনার ভিন্ন রূপ ছিলো। হাজার কাজ থাকলেও তিনি খেলার মাঠে আসতেন। আমরা যারা খেলোয়াড় ছিলাম তাদেরকে বলতো দেশটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত, তোমরা শুধু খেলবে। কোনো ডিমান্ড করতে পারবা না।
ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটেও ছিলো তার অগাধ মমত্ববোধ। সে ভালোবাসা থেকে ৭২'এ গঠন করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের যাত্রা শুরু করে একই বছর। এছাড়া প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বর্তমানে যা পরিচিত এনএসসি নামে।
অন্যসব ক্ষেত্রের মতো বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্ব দরবারে লাল-সবুজের পতাকাকে উঁচিয়ে ধরবে দেশের অ্যাথলিটরা। ক্রীড়াঙ্গণে আজকের যত অর্জন, যত গৌরব তার স্বপ্নদ্রষ্টা বা সূঁতিকাগার হিসেবে একজন শেখ মুজিবের নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে।
এএস





