জাতীয় নারী ফুটবল দলের ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনকে নিয়ে দর্শকদের মন্তব্য ‘মেয়েটা তো কায়সার হামিদের মতো খেলে’- আঁখিকে উদ্দেশ্য করে অনেকে বলেন, ‘তুমি কিন্তু কায়সার হামিদ।’
আঁখি খাতুন তো জানেন না কায়সার হামিদ কে? আঁখি একদিন নারী দলের প্রধান কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের কাছে জানতে চান, স্যার, অনেকে আমাকে বলেন কায়সার হামিদ। কিন্তু কায়সার হামিদ কে?
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক দেশের ফুটবলের অন্যতম সুপারস্টার কায়সার হামিদকে আঁখি চিনবেন না এটা স্বাভাবিক।
কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন তার সেরা ডিফেন্ডারকে জানিয়ে দেন কায়সার হামিদ কে এবং কেমন খেলতেন।
কায়সার হামিদের খেলার ধরনের সঙ্গে অনেক মিল আছে আঁখির। কেমন সেটা?
গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, ‘আঁখির উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। ফিজিক্যাল এই অ্যাডভান্টেজটা পুরোপুরি কাজে লাগান আঁখি। কর্ণার, ফ্রিকিকের সময় হেডে গোল করার জন্য আঁখি খুবই দক্ষ’-
প্রতিপক্ষ আক্রমণে এলে তাদের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে লম্বা পাস দিয়ে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ করে দেন।
লম্বা পাস দিয়ে প্রতি আক্রমণ করা, অসাধারণ ডিফেন্স করা আর হেডে গোল দেয়ার চেষ্টা- সবকিছুর মধ্যেই অনেকে কায়সার হামিদের ছায়া দেখতে পান আঁখির মধ্যে।
কায়সার হামিদকে চেনেন? কখনও দেখেছেন? তাকে ‘না। তাকে তো আমি চিনি না। কখনও দেখিনি। তবে ছোটন স্যারের কাছে কায়সার হামিদ সম্পর্কে জানার পর ইউটিউব, ফেসবুকে সার্চ দিয়ে তাকে দেখেছি’- বলেন, জাতীয় নারী দলের ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পারকোলা গ্রামের আক্তার হোসেন ও নাছিমা বেগম দম্পতির দুই সন্তানের ছোট আঁখি। আক্তার হোসেন এক সময় অন্যের তাঁতের কাজ করতেন। ছেলে নাজমুল ইসলাম ও মেয়ে আঁখিকে নিয়ে কস্টেই সংসার চালাতেন। ফুটবল খেলে আঁখি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে যে টাকা পুরস্কার পেয়েছেন সে টাকা স্থায়ী আমানত হিসেবে রেখে এখন তারা ভালোভাবে সংসার চালাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের মনসুর স্যারের অবদানের কথা ভোলেননি, নারী ফুটবলের কায়সার হামিদখ্যাত ফুটবলার আঁখি খাতুন বলেন, বাবা আর স্যারের উৎসাহেই আজ আমি জাতীয় নারী ফুটবল দলে।
সিরাজগঞ্জের কন্যা আঁখির বাংলাদেশ নারী সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে রয়েছে বিরাট ভূমিকা। দুটি টুর্নামেন্টেই সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন আঁখি। ফুটবলার হওয়ার পেছনে বাবার অবদানের কথা উল্লেখ করে আঁখি বলছিলেন, ‘বাবা খুব করে চেয়েছিলেন আমি যেন ভালো ফুটবলার হই। তখন বুট ও জার্সি কেনার টাকা বাবার কাছে ছিল না। বাবা অন্যদের কাছ থেকে এগুলো এনে আমাকে দিতেন।
নাজমুল/এমবি





