১৯৯৭ সালে ইহুদি, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের পাশাপাশি ইসলামকেও রাশিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ফলে ২০২২ সালে এসে রাশিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ মুসলমান।

সপ্তম শতকে রাশিয়ায় ইসলামের আগমন হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে মুসলিমরা সেখানে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। কখনো হয়েছে চরম নির্যাতনের শিকার; আবার কখনো নিজেরাই ক্ষমতার মসনদ পরিচালনা করেছে।

কিন্তু ১৯১৭ সালে বলশেভিক বিপ্লবের পর রাশিয়ার মুসলিমরা সবচেয়ে খারাপ সময় অতিবাহিত করে। সে সময় দেশটিতে বিদ্যমান ১৫ হাজার মসজিদ হয়তো ভেঙে দেওয়া হয় নয়তো অফিস বা গোডাউনে রূপান্তর করা হয়। ফলে পরবর্তী ৭০ বছর পর্যন্ত ইসলামের প্রচার-প্রসার সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

রুশ মুসলমানরা ধর্মীয় অনুশাসন ও সাংস্কৃৃতিক রীতিনীতি পালনে বাধার সম্মুখীন হয়। কিন্তু সোভিয়েত সাম্রাজের পতনের পর রাশিয়ায় ইসলাম ক্রমেই বিস্তার লাভ শুরু করে।

১৯৯১ সালে ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন পাস হলে ইসলাম তার অন্তর্নিহিত সব শক্তি নিয়ে আবার জেগে ওঠে। বর্তমানে প্রায় ১৫ কোটি রুশ নাগরিকের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় দুই কোটি। শুধু মস্কোতেই ১০ লাখ মুসলমানের বসবাস। বর্তমানে ‘ইসলাম’ রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। রাশিয়ায় মুসলমানদের ৯০ শতাংশই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী, আর ১০ শতাংশ শিয়া।

বিগত দুই দশক রাশিয়ায় নতুন করে প্রায় আট হাজার মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। রাজধানী মস্কোতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে চারটি বৃহত্তম দৃষ্টিনন্দন মসজিদ কমপ্লেক্স।

মস্কো ক্যাথিডাল মসজিদ তো এখন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এতে রয়েছে গ্রন্থাগার, হল রুম, মুসলিম মিউজিয়াম ও প্রদর্শনী গ্যালারি, যাতে ১০ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে। এখানে ঈদের নামাজে প্রায় তিন লাখ মানুষের সমাগম ঘটে।

২০১৫ সালে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে বর্তমান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মসজিদ কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন।

সব মিলিয়ে আমরা এ কথা বলতেই পারি যে রাশিয়ার এখন ইসলাম হচ্ছে সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান ধর্ম। আল্লাহ তার জমিনের সব জায়গায় ইসলামকে বিজয়ী করুন।

এইচএন