মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।
মামলার নথি ও অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া। তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যারও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে।
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২৩ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
মাত্র ১৩ কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণসহ বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। একই বছরের ১৩ মে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।
রায়ে হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন আদালত।
খালাস পাওয়া তিন আসামি হলেন—আছিয়ার বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে এ মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
পরবর্তী শুনানি শেষে গত ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এবার সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হলো।
এস





