গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার সুলতানপুর বড়ইপাড়া গ্রামে এখন গাঢ় সবুজের বিপ্লবে পরিণত হয়েছে নেপিয়া ঘাষ।
আর এই নেপিয়ার জাতের ঘাস চাষ করে আবদুল গফুর (৪৫) ফিরে পেয়েছে সোনালী দিনের উপহার।
আবদুল গফুর একজন দিনমজুর। অতিকষ্টে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন।
বর্তমানে প্রতি মাসে ঘাস বিক্রি করে তার আয় হচ্ছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। ঘাসের আয় দিয়েই তিনি সংসার প্রতিপালন, পাকা বাড়ি নির্মাণ ও ১০ বিঘা জমি কিনেছেন।
আবদুল গফুরের সাফল্য দেখে সুলতানপুর বড়ইপাড়া গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন ঘাস চাষ করে আত্মনির্ভর হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন।
আবদুল গফুর বলেন, ‘২০০৫ সালে তিন সদস্যের সংসার চালাতে ভীষণ কষ্ট পোহাতে হতো। সম্পদ বলতে ছিল বসতভিটা ও আবাদি এক বিঘা জমি। স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে স্থানীয় একটি সঞ্চয় সমিতির সদস্য হই।
সেখানে কিছু টাকা সঞ্চয় করার পর সাত হাজার টাকা ঋণ নেই। ওই টাকা দিয়ে প্রথমে একটি গাভী কিনি। পরে পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য নেপিয়ার জাতের ঘাস চাষের পরিকল্পনা করি।
এরপর ২০০৫ সালের শেষের দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে নেপিয়া ঘাসের চারা সংগ্রহ করে কাটিং পদ্ধতিতে প্রথমে নিজের পাঁচ শতক জমিতে ঘাসের চারা লাগাই। এক মাস পর পর এক বছর পর্যন্ত সেই ঘাস কেটে নিজের গবাদিপশুকে খাওয়ানোর পরেও বেশ কিছু ঘাস বিক্রি করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নেপিয়া ঘাস খাওয়ানোর ফলে তার গাভী অনেক বেশি দুধ দেয়। দুধ আর ঘাস বিক্রির অর্থে সংসারে সচ্ছলতা ফিরে আসে। পরবর্তী সময়ে প্রায় ১৬ বিঘা জমিতে নেপিয়ার জাতের ঘাস রোপণ করি।
এর মধ্যে কিছু জমি নিজের ও অন্যর কিছু জমি বন্ধক নেই। এসব জমিতে ঘাস উৎপাদনে খরচ পড়েছে ২০ হাজার টাকা। প্রতিমাসে ঘাস বিক্রি করে আয় হচ্ছে ৯০ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে মাসিক আয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।’
ঘাস বিক্রির আয় থেকেই তিনি এখন পাকা বাড়ি, দশ বিঘা জমি, পাঁচটি গাভী ও দুটি শ্যালোমেশিনসহ প্রায় কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ নিয়েছেন। পাঁচ শ্রমিক তার গবাদিপশুর ফার্মে কাজ করেন। তারা প্রতিদিন রিক্সা ভ্যানযোগে পলাশবাড়ী, ঢোলভাঙ্গা, ধাপেরহাট ও গাইবান্ধা শহরে ঘাস বিক্রি করেন।
আবদুল গফুর বলেন, ‘ঘাস ও গবাদিপশু পালনে অবদানের জন্য কৃষি পুরস্কার লাভ করেছি। এটা শুধু আমার নিজের অর্জন নয়, গোটা জেলার অর্জন। ভবিষ্যতে আরও দশ বিঘা জমিতে ঘাসচাষসহ ডেইরি ফার্ম করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।’
এদিকে, নেপিয়া জাতের ঘাস চাষের সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে বড়ইপাড়া গ্রামের কৃষক মাসুদ মিয়া, সিরাজুল ইসলাম ও আবদুর রশিদসহ অর্ধশতাধিক কৃষক এখন নিজের জমিতে ঘাস চাষ করেছেন।
কিশোরগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রিন্টু জানান, আবদুল গফুরের ঘাষ চাষ করে সাফল্য অর্জন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
শুধু তাই নয় গ্রামের অনেক কৃষক এখন আবদুল গফুরের দেখে নেপিয়া জাতের ঘাষ চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন। তিনি ঘাস চাষ ও গবাদিপশু পালনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার লাভ করেন
এসএইচ





