সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে আব্দুল নাসির উদ্দিন নিজেকে নরসিংদী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর তিনি আন্দোলনে অংশ নেন।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে বন্ধু সামিদসহ ৪-৫ জন লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে অংশ নিতে টঙ্গীর চেরাগ আলী থেকে রওনা হন। দুপুর ২টার দিকে উত্তরা বিএনএস এলাকায় পৌঁছালে উত্তরা পূর্ব থানার দিক থেকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা গুলি চালায় বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে সামিদকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাক্ষী বলেন, ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে তাঁকে উত্তরা কুয়েতমৈত্রী হাসপাতালে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে খোঁজাখুঁজির পর আইসিইউতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সামিদকে দেখতে পান তিনি।
আব্দুল নাসির উদ্দিনের ভাষ্য, সামিদের কপালে গুলি লেগে মাথার পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। তাঁর শরীর রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল।
পরে সামিদের বাবাকে ফোনে বিষয়টি জানান তিনি। কিছুক্ষণ পর সামিদের বাবা হাসপাতালে এসে ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। সাক্ষীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন রাত ৮টার দিকে হাসপাতাল থেকে সামিদের মরদেহ ময়মনসিংহের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।
জবানবন্দিতে নাসির উদ্দিন আরও দাবি করেন, ৫ আগস্ট সকালে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না। তাঁর অভিযোগ, ওইদিন উত্তরা এলাকায় গুলিতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন নিহত এবং অনেকে গুরুতর আহত হন।
তিনি নিহতদের মধ্যে সামিদ, সানজিদ, জসিম ও সোহেলের নাম উল্লেখ করেন।
সাক্ষীর দাবি, শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ইন্টারনেট বন্ধ করে দেন। জুলাই মাসের বিভিন্ন সময়ও ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল বলে তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
তাঁর ভাষ্য, আন্দোলনকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা যাতে বিশ্ববাসী জানতে না পারে, সে উদ্দেশ্যেই ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল।
জবানবন্দির শেষে এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন সাক্ষী।
এস