সোমবার (১৭ আগস্ট) জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন ঢাকা-৫ আসনের সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও আইনজীবী মোহাম্মদ সাইফুল আলম সুজন।

রিটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ২(ঘ) ধারা বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। ওই ধারায় শুধু সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবী সাইফুল আলম সুজন বলেন, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। তাই তাকে এমন একটি পদ্ধতিতে নির্বাচিত করা উচিত, যেখানে জনগণের সামগ্রিক মতামতের প্রতিফলন থাকে।

নিজের নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-৫-এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ওই আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বিজয়ী প্রার্থী পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট। বিপরীতে পরাজিত ১০ প্রার্থীর সম্মিলিত ভোট ছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৭২৯টি।

তার দাবি, দেশের ৩০০ আসনের হিসাব বিশ্লেষণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই বিজয়ী প্রার্থীর চেয়ে পরাজিত প্রার্থীদের সম্মিলিত ভোট বেশি হতে পারে। অথচ বর্তমান আইনে এসব প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো ভোটাধিকার নেই।

রিটে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

সাইফুল আলম সুজনের বক্তব্য, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার পান। অথচ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের কোনো ভোটাধিকার নেই।

এটিকে বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের ১০(১) ধারায় প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার বিধানকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে রিটে।

রিটকারী আইনজীবীর প্রশ্ন, সংসদ সদস্যদের যদি প্রকাশ্যেই ভোট দিতে হয় এবং দলীয় নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকে, তাহলে আলাদা নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা কতটা রয়েছে।

তার মতে, এ ধরনের ভোটপ্রক্রিয়ার পরিবর্তে কণ্ঠভোটের মাধ্যমেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হতে পারে।

রিটে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ২(ঘ) ধারা সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এবং ২৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আবেদনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সব প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে একটি অভিন্ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এস