বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দাঁড়িয়ে তিনি এ কথা জানান। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানি পরিচালনা করেন।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল। এদিন বিকেলে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি এ মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। একইসঙ্গে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাওয়া হয়। শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।
একপর্যায়ে কাঠগড়ায় থেকে দাঁড়িয়ে কিছু বলার অনুমতি চান মাসুদ উদ্দিন। ট্রাইব্যুনালকে তিনি বলেন, আমি ৭২ বছর বয়সী একজন মানুষ। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। গ্রেপ্তারের পর ধারাবাহিক রিমান্ডে রয়েছি। এজন্য দুদিন পর জিজ্ঞাসাবাদে নিলে ভালো হবে।
তিনি আরও বলেন, গত মার্চ মাস থেকে রিমান্ডে রয়েছি। ধারাবাহিকভাবে হওয়ার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এজন্য কয়েকদিন পর হলে ভালো হবে।
এ সময় তার পক্ষে দাঁড়ানো আইনজীবী লিটন আহমেদও ট্রাইব্যুনালকে জিজ্ঞাসাবাদের তারিখ পেছানোর আর্জি জানান। একইসঙ্গে আইনি দিক তুলে ধরেন।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, পুলিশের রিমান্ড এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ এক নয়। এখানে চিকিৎসকের পাশাপাশি আসামিপক্ষের আইনজীবীও উপস্থিত থাকতে পারেন।
শুনানিকালে মাসুদ উদ্দিনকে উদ্দেশ করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘আপনার ভয় পাওয়ার কারণ নেই।’ তবে আবারও সময় পেছানোর অনুরোধ জানান মাসুদ উদ্দিন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মাসুদ উদ্দিনকে আশ্বস্ত করে বলা হয়, ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এছাড়া কোনো সমস্যা হলে ট্রাইব্যুনালকে জানানোর জন্যও বলা হয়।
গত ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তিনি এক-এগারোর অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের পর অন্যান্য মামলায় তাকে কয়েক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। ৃ
এমএম