সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মিনি স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত মৎস্য সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে আলাউদ্দিন একটি সনদ ও পদক গ্রহণ করছেন। অনুষ্ঠানে এ সময় আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন পোস্টে আলাউদ্দিনকে নোয়াখালী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা এবং অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড (ওয়াপদাপোল) আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে পাওয়া পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও তাকে একই রাজনৈতিক পরিচয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
অশ্বদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম হোসেন বাবলু আলাউদ্দিনকে ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি কতদিন ধরে এ পদে রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনের মূল দলিল প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে অশ্বদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধি মো. আবদুর রহিম অভিযোগ করেন, আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্যাতন, মামলা-হামলা ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আলাউদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশীদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তাদের তদন্তে আলাউদ্দিনের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাও তদন্ত করেছে বলে জানান তিনি।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আলা উদ্দিন ফিসারিজ নোয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ও সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি কার্পজাতীয় মাছের উন্নত ও গুণগতমানের পোনা উৎপাদন ও সরবরাহের পাশাপাশি মাছ চাষ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ২১টি পুকুরে মোট ১৭ দশমিক ৬ হেক্টর জলায়তনে প্রায় ১৯৮ লাখ কার্পজাতীয় মাছের পোনা উৎপাদন করে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে ৩২ জনের সার্বক্ষণিক এবং ৬৩ জনের খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উন্নত মৎস্যচাষ পদ্ধতি অনুসরণ, মানসম্মত পোনা উৎপাদন ও সরবরাহ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মৎস্যচাষ সম্প্রসারণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আলা উদ্দিন ফিসারিজকে জাতীয় মৎস্য পদক-২০২৬-এর স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। পুরস্কারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকার একটি ব্যাংক চেকও দেওয়া হয়েছে।
তবে স্বর্ণপদক গ্রহণের ছবিতে আলাউদ্দিনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল।
এস