কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) প্রকাশিত এক পডকাস্টে সাবেক ইসরায়েলি বন্দি রম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপকালে বেন-গভির এসব মন্তব্য করেন। পরে তার বক্তব্য ফিলিস্তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

আলাপচারিতায় বেন-গভির গাজার বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে চরম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গাজার মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নেই এবং তাদের মানুষ হিসেবেও বিবেচনা করা উচিত নয়।

গাজায় চলমান যুদ্ধ নিয়ে এর আগেও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন ইসরায়েলের এই মন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ এবং গাজা থেকে তাদের চলে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।

বর্তমান যুদ্ধবিরতির আওতায় গাজায় সামরিক হামলা কমানোর সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেছেন বেন-গভির। তার মতে, ইসরায়েলের উচিত আবারও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড শুরু করা এবং হামলার পরিধি আরও বাড়ানো।

তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে সরাসরি হামলার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা বেন-গভিরের নেই। তিনি দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য, যেখানে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা নীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পডকাস্টে সাবেক বন্দি রম ব্রাসলাভস্কি ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কাজে নিজে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

জবাবে বেন-গভির তাকে এ ধরনের সুযোগ করে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

একই আলাপচারিতায় গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান জানান তিনি। পাশাপাশি গাজায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনেরও সমর্থন করেন। এমনকি গাজাকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে দেখেন বলেও মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, কোনো ভূখণ্ড থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে জোরপূর্বক বা পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে বেন-গভির আন্তর্জাতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত। ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে অবস্থান এবং ইসরায়েলি কারাগারে তাদের পরিস্থিতি আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েও তিনি বিতর্কের মুখে পড়েছেন।

তার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ তার রাজনৈতিক অবস্থান বা কর্মকাণ্ডে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।

সূত্র: আলজাজিরা

এস