বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নরসিংদী পৌর পার্কে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে ভুক্তভোগী কুয়েতপ্রবাসী লুৎফর রহমানের পরিবার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে এ হুমকি দেন।

লুৎফর রহমানের স্ত্রীসহ প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টাকা ও ৩৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এ মানববন্ধন করা হয়।

অভিযুক্ত ওই নেতার নাম মো. নয়ন মোল্লা। তিনি নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক আইন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও নরসিংদী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

এছাড়াও নানা অপকর্মের কারণে গত ২৫ আগস্ট মো. নয়ন মোল্লা নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরের পদ হারান।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, নয়ন মোল্লা তাদের পরিবারের সদস্যের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তারা।

তবে অভিযুক্ত নয়ন মোল্লা বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী তার স্বামীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করে সংসার করছেন। স্বর্ণালঙ্কার, টাকা পয়সার বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট।

মানববন্ধনে প্রবাসীর ছোট বোন শাহিদা আক্তার বলেন, আমরা বিএনপি পরিবারের সন্তান এবং বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে ছিলাম। আমরা নরসিংদীতে আন্দোলন করেছি এবং আমার বড় ভাই লুৎফর রহমান প্রবাসে আন্দোলন করেছে। আন্দোলন করার কারণে আমার ভাইকে সে দেশে জেলও খাটতে হয়েছে। তবে এখন আমরা কেন দলীয় নেতার দ্বারাই নির্যাতিত হব!

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা চাই। আর যদি আমাদের পরিবার নিরাপত্তা না পাই এবং নয়ন মোল্লার বিচার না হয়; তবে আমাদের পুরো পরিবার রাস্তায় নেমে লাইভে এসে শরীরে কেরসিন ঢেলে আত্মহত্যা করবে এবং এই মৃত্যুর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়ী থাকবেন। কারণ নয়ন বলে বেড়াচ্ছে যে, ‘তারেক রহমানেরও নাকি তার বিচার করার ক্ষমতা নেই।’

প্রবাসীর ছোট বোন বলেন, তার এত ক্ষমতার উৎসটা কোথা থেকে এলো। আমাদের যেহেতু নিজেদের জীবনের নিরাপত্তাই নেই, অন্যের হাতে মৃত্যুর চেয়ে ভালো নিজের জীবন নিজেরাই দিয়ে দেব। তবুও তো মানুষ জানবে বিচার না পাওয়ার কারণে নিজের জীবন নিজে নিয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, নরসিংদী মডেল থানা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা আইনজীবী সমিতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলসহ এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে লিখিত অভিযোগ করিনি। কোথা থেকেও কোনো সাড়া পাচ্ছি না। এমনভাবে চলতে থাকলে আমাদের আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

শাহিদা আক্তার বলেন, সে একজন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অপরাধী, যার কারণে তার এপিপি পদ হারিয়েছে। আমরা চাই, তার মতো অপরাধীদের বারের সনদও বাতিল করা হোক। তার সনদ বাতিল হলে সে প্রভাব খাটিয়ে আমাদের হয়রানি করতে পারবে না। আর না হয়, সে প্রভাব খাটিয়ে আমাদের হয়রানি করবে। আমরা থানায় কিংবা আদালতেও মামলা করতে যেতে পারি না। গেলেই আমাদের নানাভাবে হয়রানি করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- ভুক্তভোগীর ছোট বোন শাহিদা আক্তার, সফিকুল ইসলাম, রুমি বেগম, শাহিদা বেগম, রেবেকা বেগম, মো. জিয়া, তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।

এমএম