গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত।
তিনি বলেন, ‘২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। অবশ্য বাদ পড়া শিশুদের পরদিনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ক্যাপসুল খাওয়ানোর সুযোগ রয়েছে। ১২টি জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলায় পরের চারদিনও ক্যাপসুল দেওয়া হবে।’
ড. এমএ মুহিত বলেন, ‘রাতকানা রোগসহ শিশু অন্ধত্বের বড় কারণ ভিটামিন এ-র অভাব। এজন্য ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙ এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।’
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হবে, ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫০০ অস্থায়ী কেন্দ্র থাকছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত বলেন, ‘রাতকানা রোগ থেকে শুরু করে শিশু অন্ধের একটা প্রধান কারণ হচ্ছে ভিটামিন এ-র অভাব। বাংলাদেশে দুই দশক আগে সারাদেশের যেকোন জায়গায় দেখতে পেতাম অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুরা অন্ধ হয়ে যেত। ভিটামিন এ ক্যাপসুলের বিতরণ চালু হওয়ার পর এটা অত্যন্ত দ্রুত কমে এসেছে। আজকাল আমরা খুব কমই ভিটামিনের অভাবজনিত কারণে অন্ধত্ব বরণ করা শিশু দেখতে পাই।’
তিনি বলেন, ‘এই ক্যাপসুল ক্রয় করা হয়েছে ইউনিসেফ থেকে। নীল রঙের ক্যাপসুল ৪০ লক্ষ পিস এবং লাল রঙের ক্যাপসুল নেওয়া হয়েছে ২ কোটি ২০ লক্ষ পিস।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তীব্র বা জটিল অসুস্থতা ছাড়া সব শিশুই এই ক্যাপসুল খেতে পারবে।
তারা জানান, জন্মের পর ছয় মাস মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। পানি, মধু বা চিনি, মিষ্টির পানি ইত্যাদি খাওয়ানো যাবে না। এটা মায়েদের জানা প্রয়োজন। শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি খাবার আস্তে আস্তে খাওয়াতে হবে। এছাড়া মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতকরণে গর্ভবতী এবং প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে ভিটামিন এ-সংযুক্ত খাবার খাওয়া দরকার।
এমএম