চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন শনাক্ত হওয়া হ্রদটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আগামী তিন দিন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সীমিত রাখা হবে।
কীভাবে তৈরি হয় ব্যারিয়ার হ্রদ
প্রাকৃতিক কোনো বাধার কারণে নদী বা জলপ্রবাহের পথ আটকে গেলে সেখানে পানি জমে যে হ্রদের সৃষ্টি হয়, তাকে ‘ব্যারিয়ার হ্রদ’ বলা হয়। বুধবারের ভয়াবহ বন্যার পেছনেও একই ধরনের একটি হ্রদের ভূমিকা ছিল।
তুষারধসের কারণে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী ভোতি কোশি নদীর শাখা লেহেন্দে নদীর একটি অংশে পানি আটকে ব্যারিয়ার হ্রদের সৃষ্টি হয়। পরে জমে থাকা পানির চাপ বেড়ে হ্রদটি ভেঙে যায়। বিপুল পরিমাণ পানি লেহেন্দে নদী হয়ে ভোতি কোশিতে প্রবেশ করলে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, এখনো নিখোঁজ বহু মানুষ
ওই বন্যায় নেপালের রাসুয়া এবং তিব্বতের গিরং এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৫০০ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৬৫ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
বন্যার পানির সঙ্গে আসা বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে রাসুয়া, গিরংসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে গেছে। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।
উজানে নতুন হ্রদ, বাড়ছে উদ্বেগ
নতুন যে ব্যারিয়ার হ্রদটি শনাক্ত হয়েছে, সেটি ২৬ আগস্ট ভেঙে পড়া হ্রদের আরও উজানে অবস্থিত। তিব্বতের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলের কাছে এর অবস্থান।
চীনা কর্তৃপক্ষের ধারণা, বর্তমানে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। এরই মধ্যে পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে। আগামী তিন দিনে হ্রদটিতে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা খালি, নজরদারি জোরদার
পরিস্থিতি মোকাবিলায় হ্রদটির পানির স্তর ও আশপাশের ভৌগোলিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ জোরদার করেছে চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার গ্রামগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বেইজিং ও চেংদু থেকে বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন হ্রদটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় আপাতত তিব্বতে উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এস