হামাস প্রতিনিধি দলটি গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ ও সামরিক অবকাঠামোমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে দাবি করা হলেও সংগঠনটির বিবৃতিতে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ইসরায়েল সফর করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন কুশনার। এই বৈঠকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নেওয়া প্রয়োজনীয় ‘সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ’ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। খবর মার্কিন সংসবামাধ্যম অ্যাক্সিওসের।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হামাস ও ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ে এগিয়ে নিতে কাজ করছে হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’। সরাসরি বৈঠকে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। তবে, কুশনার সতর্ক করে বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হামাসের ওপর আস্থা নেই ইসরায়েলের।
বৈঠকে যারা ছিলেন
কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে ‘বোর্ড অব পিস’-এর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও বোর্ডের সদস্য টনি ব্লেয়ার, এবং বোর্ডের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আরিয়েহ লাইটস্টোন ও লিরান ট্যানকম্যান উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, হামাসের রাজনৈতিক নেতা খলিল আল-হাইয়া এই বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া ছিলেন মিশরের গোয়েন্দা প্রধান হাসান রাশাদ, কাতারের কূটনীতিক আলী আল-থাওয়াদি এবং তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
নিরস্ত্রীকরণে বাস্তব পদক্ষেপ চায় যুক্তরাষ্ট্র
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, কুশনার হামাস নেতাদের বলেন, তারা যদি ইসরায়েলের কাছ থেকে পাল্টা পদক্ষেপ চান, তাহলে নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ও বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে, ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক সরকারের কাছে গাজার শাসনক্ষমতা হস্তান্তর এবং ভবিষ্যৎ গাজা শাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা না থাকা। এর জবাবে হামাসের নেতারা জানান, তারা গাজার শাসনক্ষমতা ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত এবং সরকার কাজ শুরু করার পর তারা এতে হস্তক্ষেপ করবেন না।
অ্যাক্সিওসকে ওই সূত্র জানিয়েছে, কুশনার হামাস নেতাদের স্পষ্ট করে বলেছেন, তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনেক বেশি। কারণ হামাস সত্যিই নিরস্ত্রীকরণ করবে-এ বিষয়ে ইসরায়েল তাদের বিশ্বাস করে না।
হামাসের বক্তব্য
বৈঠকে হামাসের নেতারা গাজায় ইসরায়েলের নীতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। এর মধ্যে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে কুশনার বলেন, নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হতে চার মাস সময় নিয়েছে হামাস।
বৈঠকের পর হামাস জানায়, তারা ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-
ক) স্থায়ী যুদ্ধবিরতি;
খ) গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহার;
গ) অব্যাহত মানবিক সহায়তা;
ঘ) গাজার পুনর্গঠন শুরু করা।
হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তারা মধ্যস্থতাকারী ও ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রতি ইসরায়েলকে তার দায়িত্ব পালনে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এরপর কী?
‘বোর্ড অব পিস’ চায়, হামাস দ্রুত অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো নিষ্ক্রিয় করা শুরু করুক।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মতে, হামাস নিরস্ত্রীকরণ শুরু করলে ইসরায়েলের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের মধ্যে থাকবে—
ক) আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীকে গাজায় মোতায়েনের অনুমতি;
খ) রাফাহ এলাকায় পুনর্গঠন শুরু করার সুযোগ দেওয়া;
গ) ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রাথমিক ধাপ নিয়ে আলোচনা;
ঘ) গাজায় মানবিক সহায়তা আরও দ্রুত বৃদ্ধি করা।
উল্লেখ্য, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি কুশনারকে বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার বড় একটি অংশের উৎস গাজা। তাই গাজায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা গেলে পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।
এনএইচ