গত সপ্তাহে হাকাবি পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামের কয়েকটি বাড়ি অবরোধকারী বসতি স্থাপনকারীদেরকে ‘ইসরাইলি সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে উগ্রপন্থিরা বাড়িগুলো ঘিরে রেখেছে, যার স্পষ্ট উদ্দেশ্য হলো সেখানকার বাসিন্দাদের— যাদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন—পালিয়ে যেতে বাধ্য করা। যদিও সেনাবাহিনী দৃশ্যত তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে, বসতি স্থাপনকারীরা বারবার সেই স্থানে ফিরে এসেছে।

সম্প্রতি চ্যানেল ১২ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাকাবি বলেন, ‘অনেকে আমাকে তিরস্কার করে বলেছেন, ‘এটা তো সন্ত্রাসবাদ নয়’।’

এর বিপরীতে তিনি সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সন্ত্রাসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, যখন এমন কোনো কাজ করা হয় যা মানুষের আচরণে পরিবর্তন আনে এবং তাদের জীবনকে শঙ্কিত করে তোলে, যখন কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে মানুষের ওপর কিছু করা হয়, তা কোনো জাতির ওপর হোক কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের ওপর হোক—যার ফলে তারা তাদের জীবনযাপন করতে ভয় পায় — সেটাই সন্ত্রাস।

হাকাবি বলেন, অপরাধীরা ইসরাইলের ‘একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী’ থেকে এসেছে এবং দাবি করেন যে তাদের অনেকেই পশ্চিম তীরের বাইরে বাস করে। তিনি বলেন, ‘তারা বসতি স্থাপনকারী নয়, বরং উচ্ছেদকারী।’

তিনি বলেন, ‘তারা সেখানে বিশৃঙ্খলা করতে এসেছে এবং তারা ইসরাইল ও ইহুদি জনগণের ক্ষতি করছে—আমার কোনো ধারণা নেই কেন তারা মনে করে যে, যাদের জন্য তারা লড়াই করার দাবি করে, তাদের ক্ষতি করা ছাড়া তারা আর কিছু অর্জন করছে।’

কুসরা অবরোধের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে মার্কিন দূতাবাসের সম্পৃক্ততা নির্বিশেষে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই এই ঘটনা মোকাবেলায় ‘পদক্ষেপ’ নিচ্ছে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ‘যদি কোনো মার্কিন নাগরিক জড়িত না থাকে, তাহলে আমাদের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা থাকে না।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু যখনই কোনো মার্কিন নাগরিক জড়িত হন, তখন আমাদের সম্পৃক্ততা প্রায় স্বয়ংক্রিয় এবং তা তাৎপর্যপূর্ণ হবে, কারণ এটাই আমাদের কাজ।’

ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লুই রিদি, যার পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামের বাড়িটি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে উগ্রপন্থি বসতি স্থাপনকারীরা ঘিরে রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে নিন্দা জানানোর জন্য চাপ দেওয়া সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত তা না করায় তিনি হতাশ কিনা জানতে চাইলে হাকাবি চ্যানেল ১২-কে বলেন, ‘আমরা দায়িত্বশীল পদক্ষেপ চাই।’

হাকাবি বলেন, ‘আমরা চাই, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে, তাদের সবাইকে যেন কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়।’

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

এমএম