বিরোধীদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নির্দেশে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) নেতা আজম খান প্রতিষ্ঠিত মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি সম্ভল জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানকেও তারা একই কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে।
প্রদেশটির গাজীপুরের লোকসভা সদস্য ও এসপি নেতা আফজল আনসারী এসব অভিযানকে ‘জঘন্য পরিকল্পনা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিধান সভার নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, অবৈধ দখলের অজুহাতে এ ধরনের অভিযান আরও তীব্র করবে। তার দাবি, অভ্যন্তরীণ জরিপে বিজেপির অবস্থান খুবই দুর্বল; তাই, নির্বাচনী সুবিধা লাভের জন্য ধর্মীয় ভিত্তিতে সমাজকে মেরুকরণের লক্ষ্যেই এই সমস্ত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে কংগ্রেসও একই ধরনের অভিযোগ করেছে। দলটির মতে, বিজেপি এই ধরণের লক্ষ্যভিত্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানুষের মনে ‘প্রতিদিনই সাম্প্রদায়িকতা’ গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করছে। দলটির জাতীয় সম্পাদক শাহনওয়াজ আলম বলেন, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে সমাজে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে বিভক্ত করার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভারতের বহুত্ববাদী আদর্শের পরিপন্থী।
বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন। তাদের মতে, সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে আদালতের দায়িত্ব হলো নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা।
তবে উত্তর প্রদেশ সরকার ও বিজেপি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। তাদের মতে, উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ এবং অবৈধ দখল ও নির্মাণের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: দ্য হিন্দু
এস