বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য সুলতানা আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

সুলতানা আহমেদ জানতে চান, নতুন এলএনজি টার্মিনালগুলো চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ধরে রাখতে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডের পাইপলাইন গ্রিডে যুক্ত করা বা জরুরি ভিত্তিতে অন্য কোনো উপায়ে সরবরাহের পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে আনতে হলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে। তাই ভোলাতেই গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি উদ্যোক্তা ভোলায় শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে সেখানে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির আকারও বড় হবে বলে আশা করছে সরকার।

ভোলার গ্যাস দেশের মানুষের স্বার্থে কাজে লাগাতে সেখানে একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া ভোলার গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে মূল ভূখণ্ডে এনে আগ্রহী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ভোলার ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে নেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।

১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা

এর আগে সরকারি দলের সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পাশাপাশি ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

আকস্মিক বা সাময়িক গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পখাত যাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে জন্য দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খনন, ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বিড দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন এলএনজি টার্মিনাল

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে কমবেশি দৈনিক গড়ে ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকটে শিল্পখাত যাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলের সুবিধাজনক কোনো স্থানে জরুরি ভিত্তিতে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আকস্মিক গ্যাস সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত সরবরাহ সক্ষমতা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংসদ নেতা।

এমএম