সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার যে নিশ্চয়তা রয়েছে, তা কি মুসলমানদের জন্য আর প্রযোজ্য নয়?
ওয়াইসির দাবি, মসজিদটির অস্তিত্বের প্রমাণ ১৯১১ সাল পর্যন্ত পুরোনো সরকারি নথিতে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সেখানে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত নামাজ আদায় হয়ে আসছে। তাই শুধু আপত্তি বা অস্বস্তির কারণ দেখিয়ে বুলডোজার দিয়ে মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ওয়াইসি বলেন, মসজিদ কমিটি দীর্ঘদিনের অস্তিত্ব ও ব্যবহার প্রমাণে পুরোনো নথি আদালতে উপস্থাপন করেছিল। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময় ধরে কোনো ধর্মীয় স্থাপনা প্রকাশ্যে ও ধারাবাহিকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকলে সেটির আইনগত অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সরকারি জমির মালিকানা দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এআইএমআইএম প্রধান। তিনি তামাদি আইন ও দীর্ঘদিনের দখলসংক্রান্ত আইনি নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকার কোনো সম্পত্তির বিষয়ে দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর হঠাৎ করে সেটির মালিকানা দাবি করতে পারে না।
ওয়াইসির আরও দাবি, সাহারানপুর কালেক্টরেট প্রতিষ্ঠার আগেই ওই স্থানে মসজিদটি ছিল। তিনি বলেন, ‘মসজিদ আগে এসেছে, কালেক্টরেট পরে।’
মসজিদটি কারও কাছে অস্বস্তিকর মনে হলেও সেটি ভেঙে ফেলার কারণ হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওয়াইসির ভাষায়, তাঁর ধর্মীয় স্বাধীনতা কারও দয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়।
সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে মসজিদ অপসারণের কাজ শুরু হয় আদালতের আদেশ বহাল থাকার পর। গত ৪ সেপ্টেম্বর জেলা জজের আদালত মসজিদ কমিটির করা আপিল খারিজ করে সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আগের আদেশ বহাল রাখেন।
এর আগে ১৭ জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মসজিদটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। সরকারি জমিতে অবৈধ দখল ও অপব্যবহারের অভিযোগে প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণও নির্ধারণ করা হয়।
সাহারানপুরের ডিআইজি অভিষেক সিং জানান, সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মসজিদটিকে সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ হিসেবে উল্লেখ করে রায় দিয়েছিল। পরবর্তী আপিলও খারিজ হয়ে যাওয়ার পর উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহারানপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতেও নজরদারি চলছে।
মসজিদ ভাঙার ঘটনায় উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ইকরা হাসান অভিযোগ করেছেন, সাহারানপুর যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তাকে কাইরানায় গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদও মসজিদটি ভেঙে ফেলার সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, মসজিদটি ১৯১১ সালেরও আগে থেকে সেখানে ছিল। একই সঙ্গে ওয়াকফ বোর্ডকে মামলার পক্ষ না করার বিষয়েও প্রশ্ন তুলে আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: ডেকান ক্রনিকল
এস