ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই এসব তথ্য জানিয়েছেন। খবর আলজাজিরার।

মোহসেন রেজাই বলেন, ইরানের শর্তগুলো বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপরই হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান।

ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান। পাশাপাশি ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার তেহরান সফর করেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানি।

ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উপায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংলাপ শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যেও সমঝোতার উদ্যোগ চলছে। প্রাথমিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি করিডর তৈরিতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন।

মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছে, ইরান-ওমানের মধ্যে হওয়া চুক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই।

ওই সূত্রের দাবি, হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে এবং সমুদ্রপথ থেকে মাইনও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের বর্তমানে কোনো আলোচনা নির্ধারিত নেই। একই সঙ্গে ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধও বহাল রয়েছে।

কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পার্থক্য এখনো স্পষ্ট।

তেহরান যেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধ বন্ধ ও নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো শর্ত দিচ্ছে, সেখানে ওয়াশিংটন বলছে হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যে উন্মুক্ত। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে সংকট নিরসনে আলোচনার পথ এখনো বেশ জটিল।

এস