বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তেহরানে পৌঁছে তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পথ অনেকটাই স্থবির। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের সামরিক তৎপরতা কমে এলেও সংঘাতের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি ‘তাড়াহুড়ো করছেন না’।

হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে আলোচনা:

শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সফরের অন্যতম প্রধান বিষয় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া এবং উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরির বিষয় গুরুত্ব পাবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংঘাতের বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হতো। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তা কমে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হানার পর আগুন ধরে যায়। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং জাহাজটির সব ক্রু নিরাপদে রয়েছেন।

মধ্যস্থতায় কাতারের ভূমিকা:

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হলেও ইরানের প্রতিবেশী কাতার দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কাঠামো তৈরিতেও দোহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, কাতারের প্রধানমন্ত্রী তার সফরে কাতারের মধ্যস্থতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।

কাতারের এই সফরের আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদিও ইরান সফর করেছেন। পাকিস্তান জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন আঞ্চলিক উদ্যোগের ইঙ্গিত:

কাতার, ওমান ও পাকিস্তানের একের পর এক তেহরান সফরকে ইরান যুদ্ধ ঘিরে নতুন আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মূল বিরোধ এখনো অমীমাংসিত।

কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সফরে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কী ধরনের সমঝোতা হয়, সেটিই এখন আঞ্চলিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সফরটি সফল হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পথ উন্মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা

এস