দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যেও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর অংশ হিসেবে ত্রাণ, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নেওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আল-মারকাজুল ইসলামির স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল নেপালে পৌঁছায়। পরে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও সামগ্রিক মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেয় দলটি। এরপর শুরু হয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম।
৫ হাজার পরিবারের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী
প্রাথমিক পর্যায়ে নেপালের ৫ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে আল-মারকাজুল ইসলামি। প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি করে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্যাকেজ বিতরণ করা হচ্ছে।
প্যাকেজে রয়েছে পরিবারের প্রয়োজনীয় পোশাক, স্যানিটারি ন্যাপকিন, শিশুদের ডায়াপার এবং ২৫ কেজি ওজনের ফুড হ্যাম্পার।
ত্রাণের প্যাকেজ প্রস্তুত ও বিতরণ কার্যক্রমে নেপালের হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম স্বেচ্ছাসেবীরাও অংশ নিচ্ছেন। ধর্ম-বর্ণের বিভাজন ভুলে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে পুনর্বাসন
শুধু ত্রাণ বিতরণেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখছে না আল-মারকাজুল ইসলামি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দ্বিতীয় ধাপে পুনর্বাসন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
এই ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে গ্যাস সিলিন্ডার, চুলা ও প্রয়োজনীয় কিচেন সামগ্রীর পাশাপাশি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুনর্নির্মাণ হবে মাদ্রাসা-মসজিদ
বন্যা ও ভূমিধসে সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত একটি মাদ্রাসা ও মসজিদ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগও নিয়েছে আল-মারকাজুল ইসলামি।
এর পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিকভাবে ৫০ জন শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ গার্ডিয়ানশিপ গ্রহণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এতে দুর্যোগের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ যেন অনিশ্চয়তার মুখে না পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
ধর্মের ঊর্ধ্বে মানবতার বার্তা
আল-মারকাজুল ইসলামির এই উদ্যোগকে শুধু ত্রাণ কার্যক্রম হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্যোগের সময়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহমর্মিতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের বার্তা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশেষ করে নেপালের হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক সহযোগিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
মুফতি ইনামুল হাসান খান ফয়সাল আজহারীর নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্গত মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ সহজ করার চেষ্টা করছে আল-মারকাজুল ইসলামি।
এনএইচ