সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, আগস্ট মাসের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে বলা হলেও এতে সেপ্টেম্বর মাসে আবারও দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতি মাসে এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, মাত্র দুই থেকে তিন মাস আগেই সিলিন্ডারপ্রতি গ্যাসের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এখন আবার গ্যাস ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষের আয়-ইনকাম বাড়ছে না, মানুষের আয় বৃদ্ধি না করে তার ওপর ব্যয় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এটা তো চলতে পারে না।’ সরকারের বিভিন্ন ব্যয় ও দায়ভার সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি ও সেবা খাত বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, গ্যাস ও তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত বেসরকারি খাতে দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণকে আরও বেশি জিম্মি করার সুযোগ পেতে পারে। নগদ অর্থের বিনিময়ে এসব খাত বেসরকারি খাতে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘তখন যারা প্রাইভেট সেক্টরে নেবে, তারা জনগণকে আরও বড় জিম্মি করে রাখবে। তখন আমাদের কান্নাকাটি করারও কোনো জায়গা খুঁজে পাব না।’ এ বিষয়ে তারা শঙ্কিত বলেও জানান।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ চলছে না। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিকে ভালো বলার সুযোগ নেই।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতে কোনো শৃঙ্খলা নেই। শেয়ারবাজারও মাটির সঙ্গে পড়ে আছে, ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও অভিযোগ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা অনেক কিছু বলতে বা লিখতে পারছেন না। দেশে একটি ‘অঘোষিত সেন্সরশিপ’ আরোপ করে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলম, সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলামসহ দলটির স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমএম