বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে জায়গা পেয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম ডোনার।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি জানিয়েছে, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে দলীয় সিদ্ধান্তে এই চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা ঘোষণার পরদিনই স্থায়ী কমিটিতে এ পরিবর্তন আনা হয়। নতুন চার সদস্য যুক্ত হওয়ায় কমিটির সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।

স্থায়ী কমিটিতে নতুন চার মুখ

রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা। সাবেক সচিব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে পেশায় চিকিৎসক ফরহাদ হালিম ডোনার জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। আমানউল্লাহ আমান ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও তিনি ছিলেন।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিব স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গণ্য হন। তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় স্থায়ী কমিটির পূর্ণ সদস্যসংখ্যা ১৯ জন হওয়ার কথা।

মহাসচিব পদে রিজভীকে ঘিরে আলোচনা

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের মহাসচিবের পদসহ দলীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি এখন শূন্য হওয়ার পথে।

নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে স্থায়ী কমিটিতে রুহুল কবির রিজভীকে অন্তর্ভুক্ত করার পর তাঁকে আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে।

এর আগে স্থায়ী কমিটির সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের নামও আলোচনায় ছিল।

মন্ত্রিসভায় সীমিত রদবদলের সম্ভাবনা

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। একই সময়ে সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে মন্ত্রিসভার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির শপথের আগে বড় ধরনের মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা কম। তবে কয়েকজন নতুন মুখকে যুক্ত করে সীমিত পরিসরে পরিবর্তন আনা হতে পারে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নতুন কাউকে আনার আলোচনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরীর নামও আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন—এমন কয়েকজনকে পূর্ণ মন্ত্রী করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

তবে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে। সেক্ষেত্রে আসনটিতে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে।

স্থানীয়ভাবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন এবং তাঁর বড় মেয়ে মির্জা শামারুহর নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মির্জা পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থিতা বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ও সরকারের দায়িত্ব বণ্টনে একাধিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে। স্থায়ী কমিটিতে নতুন চার সদস্যের অন্তর্ভুক্তির পর এখন সবার নজর মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব এবং মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের দিকে।

এনএইচ