সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগ থেকেই ইসলামি আলোচক হিসেবে দেশে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন আমির হামজা। ধর্মীয় বক্তা হিসেবে ওয়াজ মাহফিলে তার যেমন সুনাম আছে, তেমনি একাধিক বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা সমালোচনাও হয়েছে।

বিশেষ করে ভারতের আলোচিত দক্ষিণী অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার চেহারার প্রশংসা করে দেওয়া বক্তব্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বক্তব্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের আজান-নামাজ প্রসঙ্গে মন্তব্য করে তিনি বিতর্কে জড়ান। এসব বক্তব্যের কোনো কোনোটি নিয়ে পরে তিনি দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমাও চেয়েছেন। বিতর্কিত বক্তব্যের পর একপর্যায়ে জামায়াতের পক্ষ থেকেও তাকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে।

এসব বিতর্কের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও দ্রুত পরিচিতি পান আমির হামজা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা হয়। সর্বশেষ গত শনিবার কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষের পর নতুন করে আবারো আলোচনা আসেন আমির হামজা।

সেদিন কী হয়েছিল কুষ্টিয়ায়

গত শনিবার (১৫ আগস্ট) কুষ্টিয়ার ছয়রাস্তার মোড়ে গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যার দিকে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে জামায়াত-শিবিরের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

শনিবার সন্ধ্যায় হামলায় ভেঙে যাওয়া আমির হামজার গাড়ির কাঁচ।

এ ঘটনায় শনিবার রাতেই কুষ্টিয়া মডেল থানায় অভিযোগ দেন আমির হামজা। পরদিন রোববার (১৬ আগস্ট) হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া বক্তব্য দেন এই সংসদ সদস্য।

প্রতিবাদ সমাবেশে কী বলেছিলেন আমির হামজা

সমাবেশে কুষ্টিয়ার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি না করে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। তা না হলে তাদের কুষ্টিয়া থেকে বিদায় করা হবে।

ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসির উদ্দেশে আমির হামজা বলেন, ‘কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি করা যাবে না, সে যে-ই হোক। আপনারা সরকারি লোক, সরকারি দায়িত্ব পালন করবেন। এই কুষ্টিয়ায় ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি-যারা সরকারি দায়িত্বে আছেন, জনগণের জন্য যদি কাজ করেন, কুষ্টিয়ায় থাকবেন। জনগণের জন্য কাজ না করলে আপনাদের আমরা বিদায় দিতে বাধ্য হব।’

শনিবার গাড়িতে হামলার প্রসঙ্গ তুলে আমির হামজা বলেন, ‘আমি এর আগেও বলেছি, এখনো বলছি-তাদের সভাপতি আর সেক্রেটারি ছাড়া বাংলাদেশে আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সুতরাং বাংলাদেশে সন্ত্রাসী দল এটা। এখন আর গণঅধিকার পরিষদ নেই, এটা গণধিকৃত পরিষদে পরিণত হয়ে গেছে। আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আমার সামনে পুলিশের গাড়ি ছিল, পেছনে পুলিশের গাড়ি ছিল। এরপরও তারা যদি আমার গাড়িতে হামলা করে, আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হামলা করার সাহস পায়, তাহলে এদের সন্ত্রাসী বলতে আর বাধা নেই।’

amir-2

রোববার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের ছয়রাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন আমির হামজা।

জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ও তৌহিদি জনতা কুষ্টিয়ায় থাকা পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘আমরা মামলা দিয়েছি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে আমরা ডিসি অফিস ঘেরাও করব।’

কুষ্টিয়ায় চাঁদাবাজি বন্ধেরও হুঁশিয়ারি দেন আমির হামজা। বলেন, ‘আমি তো বলেছি, এখানকার সরকারই আমি। সুতরাং এই আসনে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। কেউ চাঁদা দেবেন না, কেউ কারও কাছে চাঁদা নেবেন না। কেউ চাঁদা চাইলে বলবেন—এমপি সাহেবের কাছে দেওয়া আছে, সেখান থেকে ভাগ নিয়েন। কার বাবার বুকের কলিজা এত বড় হয়েছে, আমি দেখব।’

বক্তব্যের শেষে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া রাজনৈতিক তকমার সমালোচনা করেন আমির হামজা। তিনি বলেন, গত ৫৫ বছরে জামায়াত-শিবিরের ওপর বিভিন্ন ট্যাগ দেওয়ার যে রাজনীতি হয়েছে, তা ভারতের একটি ‘নাটক’। বাংলাদেশে এখন আর কেউ এসব গ্রহণ করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

আমির হামজার প্রশংসা ও সমালোচনা

জামায়াতের এই সংসদ সদস্যকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তার সমালোচনা করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন পৃথক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী অনেকে আমির হামজার কড়া বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে কুষ্টিয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত-শিবিরের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি লিখেছেন, ‘পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, জামায়াত-শিবির পুরোপুরি জালিম সংগঠনে পরিণতি হয়েছে।’ কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করার পর জামায়াত-শিবির দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ‘পেশীশক্তির মহড়া’ দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: আয়নাঘরে চেয়ারে বসিয়ে মিনিটে ১২০ বার ঘুরাত: মুফতি আমির হামজা

রাশেদ খাঁনের মতে, অতীতে বিরোধী দলগুলোকে মজলুম ও বিনয়ী হিসেবে দেখা গেলেও প্রধান বিরোধী দল হওয়ার পর জামায়াত আওয়ামী লীগের ‘সমস্ত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে’। ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতের কোনো স্পেস থাকবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আমির হামজার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরও। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি আমির হামজাকে ‘নারী ও সমাজবিদ্বেষী’, ‘অর্বাচীন’ ও ‘উন্মাদ’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে আমির হামজার বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।

নুরুল হক নুর লিখেছেন, ‘আমির হামজা বর্তমানে কুষ্টিয়ার একজন সংসদ সদস্য, জামায়াতের নেতা। ওয়াজ মাহফিলের বক্তা হিসেবেও পরিচিত। তিনি ওয়াজের মাঠে বলিউড অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার ফিগার বর্ণনা করেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নের সমর্থন না করলে জান্নাতে যাবে না বলে ফতোয়া দেন, নারী সংসদ সদস্যদের দেহাকৃতি নিয়ে করুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী, প্রশাসন, বিএনপি নেতা ও সরকারের মন্ত্রীদের নিয়ে প্রায় প্রায়ই বাজে মন্তব্য করেন। তার এসব বক্তব্যের কারণে জামায়াতের কেন্দ্র থেকে তাকে সতর্কতা বা নিষেধ করা হয়েছে এমন কোন বার্তা চোখে পড়েনি।

আমির হামজার সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

গণঅধিকারের পরিষদের সভাপতি আরও লিখেছেন, গত পরশু বরাবরের মতো আমির হামজা ওয়াজে এবার গণঅধিকার পরিষদ ও আমাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন। যার প্রেক্ষিতে শহরে শনিবার কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল করে। মিছিলের কথা শুনে আমির হামজা উন্মাদের মতো জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারসহ গাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিলকারীদের ওপর হামলা চালান। কিন্তু নাটক তৈরি করেন তার গাড়িতে হামলা করা হয়েছে।

আমির হামজার রগকাটা, উগ্রবাদী ধর্মান্ধদের হামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সভাপতি সোহানের নাকের হাড় ভেঙে গেছে, সাধারণ সম্পাদক মুহাদ্দিসকে কুপিয়ে পায়ের রগ কেটেছে, কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খালেক ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। এবং হামলায় প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হয়েছে।

আরও পড়ুন: পেটে বোমা মারলে একটা আয়াত বলতে পারবেন?— বিএনপির হারুনকে আমির হামজা

স্ট্যাটাসের শুরুর দিকে নুরুল হক নুর লিখেছেন, আমি অবাক হয়েছি তার (আমির হামজা) কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে শোকজ কিংবা না শাসিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার সাহেব উল্টো বিবৃতি দিয়ে আমির হামজার অসভ্যকে উৎসাহিত করেছেন। সাতক্ষীরার নজরুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার আমির হামজা এটা বর্তমান জামায়াতের সামগ্রিক চরিত্র কিনা জানি না।

আমির হামলার বক্তব্যের প্রশংসায় অনেক নেটিজেন

সমালোচনার পাশাপাশি অনেকে আমির হামজার প্রশংসাও করেছেন। ফেসবুকে রাশেদ খাঁন ও নুরুর হক নুরের স্ট্যাটাসের নিচে কমেন্টে অনেকে আমির হামজার প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও করেছেন। এছাড়া অনেকে আমির হামজার প্রশংসা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

আমির হামজার একটা ছবি শেয়ার দিয়ে ক্যাপশনে জাহাঙ্গীর আলম নামে ফেসবুক ব্যবহারকারী একজন লিখেছেন, ‘এই জুব্বাওয়ালা কুষ্টিয়া সদরের প্রধানমন্ত্রী। জামায়াতের জনপ্রিয় এমপি মুফতি আমির হামজা। হামজা সাহেবের পলিটিক্যাল স্ট্যান্ড চমৎকার। গত কয়েকদিনের অভিজ্ঞতা তাই বলে। আজকে তা আবারো প্রমাণিত হয়েছে। বেফাঁস কথাবার্তা কন্ট্রোলে আনতে সক্ষম হলে হামজা সাহেবের রাজনীতি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হবে। তার মধ্যে সেসব রাজনীতি প্রত্যক্ষ হচ্ছে।

তিনি আরো লিখেছেন, ‘কুষ্টিয়ার ডিসি, ওসি আমার কথামতো চলবে। এখানে কোন চাঁদাবাজি চলবে না। আগামী ৫ বছর এখানের প্রধানমন্ত্রী আমিই। এখানে যা হবে, সব আমার হাতের ওপর দিয়েই হতে হবে। এসব সাহসী কথা কে বলেছে? মুফতি আমির হামজা বলেছে। বিরোধীদলের কোন এমপি এখন পর্যন্ত এরকম সাহস দেখাতে সক্ষম হয়েছে? হয়নি। এনসিপির কোন এমপি এরকম সাহস দেখাতে সক্ষম হয়েছে? হয়নি। যে লোকটার রাজনীতি নিয়ে সবাই রসিকতায় মত্ত ছিল; সে লোকটাই এখন রাজনীতি করতেছে। রাজনীতির মতোই রাজনীতি।

amir-1জাহাঙ্গীর আলম আরও লিখেছেন, ‘আজকে হামজা সাহেব ডিসিকেও থ্রেট দিয়েছে। গণঅধিকারের সন্ত্রাসীদের ২৪ ঘণ্টার ভেতরে গ্রেফতার করতে না পারলে, ডিসি অফিস ঘেরাও করা হবে। এই থ্রেট কে দিয়েছে? জামায়াতের সবচেয়ে গুরুত্বহীন একজন এমপি। যাদের কাছে গুরুত্বহীন; তারা প্রশাসনের অফিসে গিয়ে নব-নব করে। আর হামজা সাহেব সেই অফিস ঘেরাও করার থ্রেট দেয়। দিজ ইজ অ্যাবসোলুটলি অ্যাপ্রিশিয়েবল। হামজা সাহেবের স্ট্যান্ডকে প্রশংসা না করে যাবেন কই? জামায়াতের এমপিদের আমির হামজা থেকে এই রাজনীতিটা শেখা লাগবে। যে ৬৭টা আসন আছে; সবগুলো আসনের প্রধানমন্ত্রী আপনাকেই হতে হবে। কোন ছাপড়ি নেতা যেন আপনার ওপরে কথা বলতে না পারে। পুলিশ প্রশাসন যেন আপনার কথায় ওঠবস করে। এই বন্দোবস্ত আপনাকে করতেই হবে। না পারলে আপনার রাজনীতি মাঠে মারা যাবে। সো, লাইনে আসেন। হামজা সাহেবের মতো সাহসের সাথে রাজনীতি করতে আসেন। আপনাদের থেকে আমরা এটাই আশা করি। দ্যাটস এনাফ ডিসকাশন।’

মো. আল আমিন আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, ‘এরমকম বাঁকা কথা বলাই হচ্ছে এই মুহূর্তে বিরোধী দলীয় এমপির সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যেটা মুফতি আমির হামজা করতে পারছেন।’

এমএম