রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। সরকার চাইলে জরুরি খাতে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত সংকটের সমাধান করতে পারে। জনগণকে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় না রেখে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
তিনি বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ বন্ধ, ভুতুড়ে বিল রোধ এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের নামে অর্থ অপচয় বন্ধের দাবি জানান।
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লুটপাটের বাজার তৈরি করা হয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করে বিপুল অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ থাকলেও সরকার সেদিকে নজর দিচ্ছে না। বরং বিরোধী দলের আন্দোলনের দিকে সরকারের বেশি মনোযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের সময়সীমা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, কেউ ১০ বছর, আবার কেউ দুই বছরের কথা বলছেন। সরকারের একেকজন একেক ধরনের সময়সীমা দেওয়ায় তাদের বক্তব্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। আগে সরকারের নিজেদের মধ্যকার এই মতবিরোধের সমাধান করা উচিত।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারের সক্ষমতা থাকলে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করে জাতির সামনে তার প্রমাণ দেওয়া উচিত।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, সরকার ব্যর্থ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো দেশ। জ্বালানি সংকটে রান্না করতে না পারা সাধারণ পরিবার, উৎপাদন বন্ধ হওয়া শ্রমিক, সময়মতো পণ্য তৈরি ও রপ্তানি করতে না পারা উদ্যোক্তা—সবাই এর ভুক্তভোগী। এর প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও।
বর্তমান সংসদে বিপুল অর্থের বাজেট পাস হলেও তা যথাযথ খাতে ব্যয় করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, নিজেদের ব্যর্থতা ও জনবিচ্ছিন্নতা আড়াল করতে ব্যর্থ সরকারগুলো অনেক সময় অপ্রাসঙ্গিক বিষয় সামনে এনে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা‘ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এস