তবে সিফাতের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে নানা মত ও বিতর্ক।
বিশেষ করে বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্যসহ অনেক নেটিজেন। তাদের কেউ কেউ গ্রেপ্তারের ঘটনাকে বিতর্কিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিফাত আব্দুল্লাহ নামে ওই যুবক বেশ কিছুদিন যাবত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও লেখালেখি করতেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা গাছা থানা পুলিশকে জানায়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির দায়ে সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে রাত ৯টার দিকে থানায় আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।
এদিকে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য এক পোস্টে লিখেছেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে করা সিফাতের ভিডিওটি আমি কয়েকবার দেখেছি। সে যা বলেছে, তার কয়েকটি শব্দ বাদ দিলে নাগরিক হিসেবে তার ক্ষোভ পুরোপুরি যৌক্তিক।
কাডাল রানী (শেখ হাসিনা) যখন ক্ষমতায় ছিল, বেশিরভাগ অ্যাক্টিভিস্ট তাকে সিফাতের চেয়ে দ্বিগুণ ভাষায় গালাগালি করত। বিএনপির ২১২ আসনের হেডমে আজ সিফাতকে আটক করা হলো। এটা মারাত্মক খারাপ নজির হলো। এর প্রাইস ভবিষ্যতে অনেক হেভি হবে।
এ সময় তিনি সরকার দলীয়দের উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করে বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিদ্যুৎ বিল কি আগের মতোই আসতেছে? কষা জাহেদের বিদ্যুৎ বিল কত আসে?
১৭ বছর মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিএনপির সকল কার্যক্রম ভণ্ডামি হিসেবেই প্রমাণ হবে সামনের দিনগুলোতে। আমরা এমন একটা দলকে নিয়া ফ্যাসিবিরোধী লড়াই করছিলাম যাদের ধৈর্যের লেভেল মাত্র ছয় মাস।
ঘটনাটি নিয়ে অনেকে বলছেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ভোক্তার ক্ষোভ বা অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তাদের মতে, কোনো নাগরিকের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শান্তিপূর্ণভাবে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
তবে অন্য একটি পক্ষের মত, কোনো বিষয়ে ক্ষোভ থাকলেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ কিংবা অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করছেন তারা।
অনেকেই আবার প্রশ্ন তুলেছেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি কীভাবে তদন্ত ও সমাধান করা যায়, সেটিই হওয়া উচিত আলোচনার মূল বিষয়। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার দাবিও জানিয়েছেন কেউ কেউ।
এদিকে সিফাতকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঘটনার প্রতিবাদে গভীর রাত থেকেই গাছা থানার সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে থানার সামনে পাল্টা অবস্থান নেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারাও। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এস